ক্লিন ইমেজ সমৃদ্ধ অনুপ-লালন পরিষদকেই বেছে নিবেন সাধারন ভোটাররা

কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২৪ ফেব্রয়ারি

নিজ সংবাদ ॥ জমে উঠেছে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। চলছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা। প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত হলেও থেমে নেয় সম্ভাব্য প্রার্থী ও অনুসারীরা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সমিতির নির্বাচন আগামী ২৪ ফেব্র“য়ারি। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আদালত পাড়ায় শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা। কারা হচ্ছেন প্রার্থি। পুরনোরাই নাকি নতুন কেউ আসবেন বারের শীর্ষ পদে। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পদে আগ্রহ দেখিয়েছেন ডজনখানেক প্রার্থি। সভাপতি পদে এবার দু’জন প্রার্থি হচ্ছেন। তাঁরা দু’জনই নতুন মুখ। এরা হলেন কুষ্টিয়া জজ কোর্টের পিপি সিনিয়র আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী ও আরেক সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল জলিল। এরা দু’জনই নতুন মুখ হলেও তাদের রয়েছে বেশ পরিচিতি। সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থি হবার আগ্রহ দেখিয়েছেন ৪জন। এরা হলেন বর্তমান সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম দুলাল, সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম লালন, আবু সাঈদ ও রফিকুল ইসলাম সবুজ। মনোনয়নপত্র ক্রয়ের তালিকা অনুযায়ী এই ৪জনের নাম শোনা গেছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এবারের নির্বাচনে আলোচনায় এসেছেন সভাপতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম লালন। ক্লিন ইমেজ সমৃদ্ধ এই দুই সিনিয়র আইনজীবী এরই মধ্যে ভোটারদের কাছে তুমূল জনপ্রিয় নাম। নির্বাচন করছেন একই প্যানেলে। বারের সকল আইনজীবীদের দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রার্থি হচ্ছেন তাঁরা। সভাপতি প্রার্থি অনুপ কুমার নন্দীকে আর নতুন করে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই। কারণ কুষ্টিয়া বার তথা আদালত পাড়ায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সকলের মধ্যে। বিশেষ করে পিপি’র দায়িত্ব পাবার পর থেকে তাঁর স্পর্শে কোর্টের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। দীর্ঘ দিনের মামলা জট কমেছে। বিচারকদের সাথে সমন্বয় করে গোটা আদালতপাড়াকে একটি সুন্দর কাঠামোতে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া লোভ লালসাকে এড়িয়ে নিজেকে সর্বজন গ্রহনযোগ্য হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। এসব কারনে আসন্ন নির্বাচনে তাঁকেই আগামী এক বছরের জন্য সমিতির দায়িত্বে দেখতে চান সাধারণ আইনজীবীরা।

একই অবস্থা রফিকুল ইসলাম লালনের ক্ষেত্রেও। পিপি হিসেবে তাঁর যোগ্যতার প্রমাণের সুযোগ না হলেও সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তার অবস্থান বেশ। অত্যন্ত সদালাপি, নিষ্ঠাবান আইনজীবী হিসেবে কুষ্টিয়াবারের সকলেই তাঁকে মানেন। আর এসব কারনেই আগামী নির্বাচনে যে তাদের প্যানেলেরই নিরঙ্কুশ বিজয় হচ্ছে তা এক বাক্যেই বলা যায়।

এবিষয়ে সভাপতি প্রার্থী কুষ্টিয়া কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান আমি প্রার্থি হয়েছি সাধারন আইনজীবী সমিতির স্বার্থে। সমিতিতে যে অব্যবস্থাপনা, যে আর্থিক অস্বচ্ছতা দীর্ঘদিন ধরে কলঙ্কিত করে রেখেছিল তার ইতি টানতে চাই। এক কথায় কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতিকে একটি স্বচ্ছ কাঠামোয় দাঁড় করাতে চাই। এজন্য কুষ্টিয়া বারের সকল সদস্য আমাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই। যাকে সাধারন সম্পাদক প্রার্থি করা হয়েছে সেই রফিকুল ইসলাম লালনও একই মতের, যোগ্যতর আইনজীবী। আশা করি আসন্ন নির্বাচনে আমাদের প্যানেলকে বিপুল ভোটে বিজয় এনে দিবেন ভোটারা।

এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র আইনজীবী আনছার আলী, কমিশনার হিসেবে থাকছেন এ্যাড. আক্তারুজ্জামান ও আশরাফ হোসেন। সর্বমোট ৪২৪জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

আরো খবর...