ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জনে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে

কুষ্টিয়ায় ৪৭তম জাতীয় গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফুটবল ফাইনালে আসলাম হোসেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেছেন, ক্রীড়াঙ্গনের আমাদের দেশ বেশ এগিয়ে। আর এই ধারবাহিকতা রক্ষায় আমাদের আরো বেশি উদ্যোগী হতে হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৪৭তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফুটবলের ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রীক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জন আমাদের সাহসিকতা বৃদ্ধি করেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, সংস্থার সহসম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতেখায়রুল ইসলাম, এ্যাড, শরীফ উদ্দিন রিমন প্রমুখ। গতকাল বালিকা এবং বালকদের জেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বালিকাদের প্রথম খেলায় অংশ নেয় ভেড়ামারা আফসার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭-০গোলের বড় ব্যবধানে আফসার উদ্দিন স্কুলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বালকদের ফাইনাল খেলায় কুমারখালী এম.এন পাইলট স্কুল ১-০ গোলে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলের পক্ষে একমাত্র গোল করেন রুবেল। বালিকা দলের  ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার লাভ করে আয়েশা খাতুন জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। একই স্কুলের বন্যা খাতুন ম্যান অব দি ম্যাচ পুরস্কার এবং সেরা গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে একই স্কুলের আম্বিয়া খাতুন।

বালকদের খেলায় ম্যান অব দি ম্যাচ রুবেল ও সেরা গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে কুমারখালী এম.এন পাইলট স্কুলের বিপুল হোসেন এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে একই স্কুলের ইমন। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ক্রেষ্ট ও পদক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ফুটবলে আবারো জাগরণ শুরু হয়েছে। আমাদের মেয়েরা বিদেশের মাঠ কাঁপিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। দেশের সব স্থানেই ফুটবলের আয়োজন চলছে তারই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কোমলমতি সন্তানদের হাতে বই আর মানষিকতার উন্নয়নে তাদের খেলাধুলার প্রতি আকর্ষন করে তুলতে হবে। তাদের ভয়াল মাদকের থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে। তাদের যোগ্যভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। তিনি বলেন, আজকের খেলায় সব খেলোয়াড়ই তাদের নৈপুন্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে আগামীতে এরা জেলার সম্মান বয়ে আনবে বলে আশা রাখি। জেলা প্রশাসক এই প্রতিযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গতকালের ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক দর্শক ষ্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল। এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে জেলা পর্যায়ের হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বালকদের খেলায় জিলা স্কুল চ্যাম্পিয়ন ও  ভেড়ামারা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানার আপ হয়। হ্যান্ডবল বালিকা চ্যাম্পিয়ন ভেড়ামারা আফসার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ হয় দৌলতপুর নাসির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কাবাডি চ্যাম্পিয়ন বালকদলে কুমারখালী এম.এন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ মিরপুর নাজমুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা।  কাবাডি বালিকা চ্যাম্পিয়ন পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রানারআপ বড়গাংদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এছাড়া সাঁতার প্রতিযোগিতা বালক এবং বালিক গ্র“পে ৯টি করে ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সাঁতারে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহনের সুযোগ লাভ করেছে। আগামী ২২ ও  ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনার বিভিন্ন ভেন্যুতে গ্রীস্মকালীন প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যলে খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

আরো খবর...