ক্যাশিয়ার আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সার্ভিস বইয়ে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ

কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর
জন্ম ও একাডেমিক সদনে দুই জন্ম সাল

বিশেষ প্রতিনিধি  ॥ কুষ্টিয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ক্যাশিয়ার আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। জন্মসনদ ও একাডেমিক সনদপত্রে দুই রকম জন্ম তারিখ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ধুম্রুজাল সৃষ্টি হওয়ায় তদন্ত করার জন্য সম্প্রতি অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন আশরাফুল। অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও তিনি ক্যাশিয়ার পদে কুষ্টিয়া অফিসে দাপটের সাথে চাকুরি করছেন। তার বিরুদ্ধে শুধু বয়স জালিয়াতিই নয় ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি কুষ্টিয়া অফিস থেকে মাগুরা জেলায় বদলি করা হয় ক্যাশিয়ার আশরাফুলকে। তখন তার ছাড়পত্র তৈরি করতে গিয়ে দেখা যায় অফিসে কোন সার্ভিস বুক নেই। সার্ভিস বুকটি আশরাফুল নিজের কাছে রেখে দেন। পরে বইটি জমা দেয়ার জন্য তাকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠি পেয়ে তিনি বইটি অফিসে জমা দেন।

কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, বইটি পর্যালোচনা করে তার সম্পর্কে প্রতিবেদন লিখতে দিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান আশরাফুল ইসলামের বয়স চাকুরী নিয়মিত করণ, পদ পরিবর্তন ও বইটিতে জন্ম তারিখ একাধিক দেখা যায়। এ বিষয়ে অধিদপ্তরকে অনিয়মের বিষয়টি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়ে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়ার অুনরোধ জানানো হয়।

চিঠি ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি যখন অধিদপ্তরে যোগদান করেন তখন তার জন্ম তারিখ ছিল ০১-০২-১৯৬৯ সাল। সার্ভিস বইয়ের ৫ম খন্ডে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যে চিঠি দেয়া হয় তাতে সার্ভিস বইটিতে বয়সের ঘরটি ওভার রাইটিং বলে মনে হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। অন্য পৃষ্ঠায় ৪র্থ খন্ডে ১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় সিসিটি থেকে ক্যাশিয়ার পদে পরিবর্তন করে যোগদানের করার কোন নথি সার্ভিস বইতে উল্লেখ করা হয়নি।

সার্ভিস বই ঘেঁটে কর্মকর্তারা আরো দেখতে পান, আশরাফুল ইসলাম ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি নড়াইল জেলায় স্ব-বেতনে বদলি করা হয়। সেই মোতাবেক তিনি এখনো ক্যাশিয়ার না আগের সিসিটি পদেই আছেন সেটিও নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আবার ৫ম খন্ডে ১ম পাতায় আশরাফুল ইসলামের চাকুরি বইতে এসএসসি সনদপত্র অনুযায়ী বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ০১-০১-১৯৫৯। সেই মোতাবেক তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের  ১ ফেব্র“য়ারি। আবার আগের জন্ম তারিখ অনুযায়ী (০১-০২-১৯৬৯) তিনি যখন (১৯৮৫) চাকুরিতে যোগদান করেন তখণ বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস ১১দিন। বিষয়টিতে ব্যাপক গরমিল রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হলে বলেন,‘ বিষয়টি নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছিল, সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। ভুল করে দুই রকম জন্ম তারিখ বসানো হয়েছিল। এখন আর কোন সমস্যা নেই।’

এদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,‘ আশরাফুল ইসলামের খুটির জোর অনেক। তাই নানা অনিয়ম করে বারবার পার পেয়ে যান। বয়স জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের পরও বহাল তবিয়তে আছে।

মাগুরা জেলায় বদলির দুই মাসের মাথায় ওপর মহলকে ম্যানেজ করে ফের কুষ্টিয়া এসে যোগদান করেছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় যোগদান করাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় ওপর থেকে আশরাফুলকে দ্রুত যোগদান করানোর জন্য বারবার তাগাদা দেয়া হয়। এ জন্য তাকে যোগদান করাতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা।

নানা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে ভুয়া বিল পাশ করানোসহ নানা অভিযোগও আছে দপ্তরে।

এসব বিষয়ে কথা হলে কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাচানুজ্জামান বলেন, আশরাফুলের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগ পাওয়ায় তদন্তের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল। মাগুরা জেলায় বদলি হওয়ার দুই মাসের মাথায় ফের তাকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়। পরে ওপর থেকে চাপ দেওয়ায় তাকে ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করানো হয়েছে।’

আরো খবর...