কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষককে ফাঁকি দিয়ে কখনো উন্নয়ন প্রত্যাশা করা যাবেনা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেছেন আমাদের দেশ কৃষি নির্ভর। কৃষকই আমাদের মুল প্রাণশক্তি। দেশ যে মধ্যম আয় থেকে উন্নত বিশ্বের কাতারে ধাবিত হচ্ছে তাতে এই কৃষকের অবদান অনস্বীকার্য। মনে রাখতে হবে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষককে ফাঁকি দিয়ে কখনো উন্নয়ন প্রত্যাশা করা যাবেনা। তাই কৃষকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সম্প্রতি ধান্যের ন্যায্য মূল্য নিয়ে যখন কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে আলোচনা হচ্ছে তখন কুষ্টিয়ায় ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করতে গিয়ে এভাবেই কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন চলতি বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়ায় রেকর্ড পরিমান ধানের আবাদ হয়েছে। কিন্তু কৃষক তাদের সেই কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেননা বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো সরকার প্রতি বছরের মত এবারও কৃষকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ন্যায্য মুল্যে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিমানে কম হলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে যে মনপ্রতি ১০৪০টাকায় ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে কৃষক অবশ্যই খুঁশি হবে। তবে অন্যান্যবার দালাল কিংবা মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা কৃষকের লাভে যে ভাগ বসাতো এবার সেই আশা পুরণ হবেনা। তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন কুষ্টিয়া তথা কুষ্টিয়া সদরে যে ৩৯৮ মে:টন ধান  কৃষকের নামে বরাদ্দ এসেছে তার পুরোটাই প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে নিতে হবে। আতাউর রহমান বলেন যুগ পাল্টেছে। দুর্নীতি অনিয়মের সময় শেষ হয়েছে। কোন অসাধু ব্যক্তি কৃষকের স্বার্থে আঘাত হানতে পারবেনা। তিনি জানান কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছি কৃষকের স্বার্থ নিয়ে যারাই ছিনিমিনি খেলবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। এবিষয়ে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ার হোসেন জানান কৃষি বিভাগের তালিকা অনুযায়ী সরাসরি প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকেই ধান কেনা হচ্ছে। কোন দালাল ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীর ঠাঁই নেই। সরকার নির্ধারিত মুল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে খুঁশি কৃষক। এবিষয়ে মনোয়ার হোসেন জানান এবার রাজনৈতিক কোন চাপ নেই। অন্যান্যবার বিভিন্ন চাপের কারনে প্রকৃত কৃষক ধান বিক্রি করতে বেগ পেয়েছিলেন। এবার সেই সুযোগ পাচ্ছেনা অসাধ্য চক্র। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন কোন অসাধুচক্র কৃষকদের স্বার্থে ভাগ বসাতে পারবেনা। এবিষয়ে যদি দলের কোন নেতাকর্মীও হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। চলতি বোরো মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ১০৪০ মে:টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ৩৯৮ মে:টন বরাদ্দ পেয়েছে। ২৬ টাকা কেজি দরে ওই ধান প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হবে। এর ফলে কৃষক যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল তা কিছুটা হলেও লোকসান পুশিয়ে নিতে পারবেন।

আরো খবর...