কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ খেলার মাঠ পরিস্কারে নেমে পড়ল ছাত্রলীগ

কুচুরিপানা ও বড় বড় ঘাসে পুরো মাঠ জঙ্গলে পরিণত

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের একমাত্র খেলার মাঠে হাটুপানি জমে ঘাস ও কুচুরি পানায় ভরে আছে। যার কারনে গত কয়েক মাস ধরে কলেজের শিক্ষার্থীরা মাঠটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করতে পারছে না। কলেজের ২২ হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও মাঠের অভাবে তারা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা থেকে। মাঠের এ চিত্র দেখে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা নিজেরাই মাঠ পরিস্কারে নেমে পড়েন। গতকাল শুক্রবার সকালে কলেজ ছাত্রলীগের অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মি নেমে পড়েন মাঠ পরিস্কারে।

কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা জানান,‘ শহরের মধ্যে খেলাধুলার জন্য সরকারি কলেজের এই মাঠটি সবার ভরসা। শুকনো মৌসুমে যে কয়েক মাস মাঠটি পানি মুক্ত থাকে তখন ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলায় মেতে থাকে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মাঠে হাটু পানি জমে আছে। কুচুরিপানা ও বড় বড় ঘাসে পুরো মাঠ জঙ্গল হয়ে গেছে। দেখে মনে হয় কোন জলাশয় এটি। কলেজ কৃর্তৃপক্ষ মাঠ সংস্কারে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিজেরায় মাঠ সংস্কারের জন্য ৫দিনের কর্মসুচী দিয়েছি। আগামী ৩দিনের মধ্যে আমরা মাঠটি পুরোপুরি পরিস্কার করে খেলার উপযুক্ত করে ফেলব।

শুক্রবার সকালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি স্বপন হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মি কাঁচি হাতে মাঠে নেমে পড়েন।  এসময় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরশেদ আলী, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদিন, কলেজ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহবুব আলম লিমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমানসহ অন্যরা এ সময় মাঠের ঘাস ও কচুরিপানা পরিস্কার করেন। তাদের দেখাদেখি কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরাও নেমে পড়েন মাঠ পরিস্কারে।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন হোসেন বলেন,‘ মাঠের অভাবে অনেকের ইচ্ছা থাকার পর খেলাধুলা করতে পারে না। মাঠটি নিচু হওয়ায় হাঁটু পানি জমে থাকে। কুচুরিপানা ও ঘাসে ভরে গেছে। এ অবস্থা দেখে আমরা নিজেরাই নেমে পড়েছি। আগামী ৫দিনের মধ্যে কচুরিপানা ও ঘাস পরিস্কার করে পানি বের করে দেয়া হবে। আশা করছি মাঠে আগের মত খেলাধুলা হবে।

কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ ও নাদিম বলেন,‘ মাঠ না থাকায় অনেকে বিপথে চলে যাচ্ছে। খেলাধুলা করলে শরীর মন ভাল থাকে। আগে খেলতে পারলেও গত কয়েক মাস মাঠে নামার মত পরিবেশ নেই। তাই খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন,‘ ছাত্রলীগ সব সময় ভাল কাজের সাথে থাকে, তার প্রমান একটি। কলেজ প্রশাসনের দিকে না তাকিয়ে থেকে আমরা নিজেরায় উদ্যোগ নিয়ে মাঠ পরিস্কার করছি।

কলেজের অধ্যক্ষ কাজি মনজুর কাদির বলেন,‘ ছাত্রলীগের ছেলেরা ভাল উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। কলেজের মাঠটি অনেক নিচু। এছাড়া মূল সড়ক থেকে মাঠটি অনেক নিচু হওয়ায় বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। এর আগে কয়েকবার সংস্কার করে পুরোপুরি উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। এ বছরই মাঠটি উচু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশা রয়েছে।’

আরো খবর...