কুষ্টিয়া পৌরসভায় সড়ক নির্মাণে প্রকল্পে ধীরগতি, চরম ভোগান্তি পৌরবাসীর

রাতের বেলা নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার ড্রেণ ও সড়কের কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পৌরসভার প্রকৌশলীদের নিষেধ অমান্য করে ঠিকাদারের লোকজন রাতের বেলা নিম্নমানের ইট, খোয়া ফেলে কাজ করছে। ভরা বর্ষার মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কয়েকদিন আগে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের প্রধানসড়কসহ দুটি সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের বড় নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সাথে সড়ক প্রসস্তসহ সংস্কারের কাজ চলছে। বিষয়টি স্বীকার কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ‘ঠিকাদারের কাজ ই চুরি করা। পৌরসভার জনবল কম থাকায় সব কিছু দেখা সম্ভব হচ্ছে না। তারপর যতটুকু সম্ভব কাজ বুঝে নেওয়া হচ্ছে। রাতের বেলায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার। যাতে পৌরবাসী এসব সুবিধা ভোগ করতে পারে। আরো লোকবল থাকলে কাজ করতে সুবিধা হয়।’ পৌরসভা সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর থেকে বড় বাজার পর্যন্ত এনএসরোডের প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার ও মজমপুর থেকে রেনউইক কার্যালয় পর্যন্ত চৌধুরী কওসের উদ্দীন সড়কে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রধান নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সাথে নালা নির্মাণের ফলে প্রশস্ত হওয়া সড়কের অংশ নির্মাণসহ দুটি সড়কই সংস্কারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এনএসরোডের অন্তত চার জায়গায় সড়ক বিভাজন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কার্যাদেশ পেয়েছে নেশন টেক নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবপস্থাপনা পরিচালক হলেন ইফতেখারুল ইসলাম শিমুল। পৌরসভা সূত্র আরও জানা যায়, এনএস রোডের উভয় পাশে ৫ থেকে ৬ফিট প্রস্ত নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। নালার ওপরে টাইলস দিয়ে পথচারীদের জন্য হাটাচলার ফুটপাতের ব্যবস্থাও নকশাতে রয়েছে। একইভাবে কওসের উদ্দীন সড়কের একপাশে নালায় টাইলস বসানো হবে। নালা নির্মাণের ফলে মূল সড়ক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বর্ধিত অংশও সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এরপর পুরো সড়ক সংষ্কার করার কথা। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে এসব কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। কাজে গাফিলতি, ধীরগতি ও নিম্নমানের ইট খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়ক খোড়াখুড়িতে পৌর বাসিন্দারা খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ক্ষোভও প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকেরা। রাতের বেলায় ইট বালু খোয়া দিয়ে সড়কের কাজ চলছে। এদিকে সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, এনএসরোডের শাপলা চত্বর ও থানামোড়ে নালার পাশে প্রশস্ত সড়কে ইটের খোয়া দেখা হয়। শাপলা চত্বরে কয়েক জায়গায় নিম্নমানের খোয়া ফেলা হয়েছে। সেখানে একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে ইটের খোয়া দেখানো হলে তিনি সেটি খুবই নিম্নমানের বলে সনাক্ত করেন। যেগুলো সড়কে ফেলে রুলার করানো সেগুলোও দেখতে নিম্নমানের। কার্যাদেশ নকশাতে এই ইট ব্যবহারের কোন বিধান নাই। সরকারী বালিকা বিদ্যালয় থেকে জেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার সড়কে খোয়া ফেলে এবড়ো তেবড়ো হয়ে পড়ে আছে। রিকশা ও ইজিবাইকে চলতে গিয়ে অনেকে পড়ে আহতও হচ্ছে। এদিকে কোন কোন জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খোয়ার ভেতরে পানি প্রবেশ করে দুর্বল হয়ে পড়ছে। শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সহসভাপাতি এসএম কাদেরী শাকিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ার প্রাণকেন্দ্র ও ব্যস্ততম সড়কে কাজ চলছে। কাজের গতি ও মান দেখে মনে হচ্ছে এই সড়কের কোন মা-বাপ নেই। কাজের গতিতে ব্যবসায়ীরাও ব্যবসাতে ক্ষতির মুখে পড়ছে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুষ্টিয়া শাখার সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন, এত ব্যস্ত এলাকায় ধীর গতির কাজ খুবই অমার্জনীয়। তাছাড়া প্রকাশ্যে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়ম এটা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এখনও অনুমোদন হয়নি। তবে কাজ ভালো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের তিনি বলেন,‘কিছু কাজ সাব কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছে হয়তো সেগুলোতে সমস্যা হতে পারে। তবে এটা জানা নেই। জেনে অবশ্যই প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই শহরেই আমার বাড়ি। আমাকেও সড়কে চলতে হয়। সেক্ষেত্রে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই।’ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি জানার পর এক মাস আগে সরেজিমন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছিলাম। ওই সব সামগ্রী দ্রুত সরানোর জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে গত ২৬ মে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজেও ধীরগতি। কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।

 

আরো খবর...