কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক আরজুর দাফন সম্পন্ন

জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এম.এ শামীম আরজুর জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাজার হাজার মুসল্লীর উপস্থিতিতে গতকাল বাদ জুম্মা কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি খুলনা বিভাগীয়সহ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের পুত্র অনিন্দ ইসলাম ও বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক জিয়ার পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জানাজা নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অনিন্দ ইসলাম বলেন, এম, এ শামীম আরজু মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করে গেছেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ, একজন ক্রীড়া সংগঠক, একজন সমাজসেবক হিসেবে জেলাবাসীর নিকট অতি পরিচিত ছিলেন। তারই প্রমাণ আজকের এই জানাজায় দলবল নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। মৃত্যু সকলের জন্য অপরিহার্য, মৃত্যুকে কেউ রোধ করতে পারবে না। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু সবাইকে ভাবিয়ে তুলে। আরজুর এভাবে মৃত্যু কি কারোর কাম্য ছিল? আরজু দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হলেন, আজ আমাদের অনেক দাবী ছিল কিন্তু এসব কোন দাবীরই মুল্যে নেই, কিন্তু মহান আল্লাহর দরবারে এইসব দাবী সমর্পন করলাম। আল্লাহপাক এর বিচার করবেন। তিনি বলেন, ২৬মার্চ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্বম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর অধিকার প্রতিটি নাগরিকের ছিল কিন্তু সেখানে বিএনপি‘র নেতাদের আটক করা হলো। আরজু আজীবন বিএনপির সাথে ছিলেন, তার মৃত্যু রাজনৈতিক কারনেই হয়েছে। আরজুর পরিবারকে বিএনপি আজীবন দেখ ভালের দায়িত্ব নিলো। জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড আমিরুল ইসলাম বলেন, আজকের এই মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আজ অনেক প্রশ্ন মনে দাগ কাটে কিন্তু সব প্রশ্নই ভবিষ্যতের জন্য রেখে গেলাম। শহর বিএনপির সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, আজকের জানাজায় জেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক অনুপস্থিত তারা জেলাখানায়। আমরা জেলাবাসী এমনটা কোন দিনই আশা করি নাই। এসময় এম এ শামীম আরজুর জেষ্ট্য পুত্র বক্তব্যে তারর পিতার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন। জানাজায় জেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ, সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমী অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড, তৌহিদুল আলম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন উপস্থিত ছিলেন। পরে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য. গত ২৬ মার্চ  জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ শামীম আরজুসহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ ১২জন নেতা-কর্মীকে কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভ^ থেকে আটক করে পুলিশ। পরে সরকারী কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে কারাগারে তিনি অসুুস্থ হয়ে পড়লে এমএ শামীম আরজুকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আনার পর তিনি মারা যান।

 

আরো খবর...