কুষ্টিয়ায় ‘স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা’ স্মৃতি স্তম্ভটির সামনে থেকে ময়লা-আবর্জনা সরাতে জেলা প্রশাসকের আল্টিমেটাম 

ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে মঞ্চটি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে নির্মিত স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম এনএস রোডে পৌর বাজারের সামনে এটির অবস্থান। ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে মানুষ চলাচল করতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন পরে হলেও এর সামনে থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে এটিতে আগের রুপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। তিনি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীতে এখানে ময়লা ফেললে জেল-জরিমানা করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন জেলা প্রশাসক।

বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটি নির্মিত হয় কয়েক যুগ আগে। এখানে যে মঞ্চটি আছে সেটি বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম, পথনাটক, শোকসভাসহ নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হতো। এখন মঞ্চটির সামনেই সর্বক্ষণ ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় এটি আর ব্যবহার করা যায়না।

গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় নাগরিকরা বিষয়টি তুলে ধরে স্বাধীনতার স্মৃতিচিহৃ হিসেবে নির্মিত স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা মঞ্চটি রক্ষার দাবি করেন। এর প্রেক্ষিত বিকেলে জেলা প্রশাসক  স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা মঞ্চটি পরির্দশনে আসেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মজনু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, সহকারি কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিনসহ বাজার কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন,‘ ময়লা-আবর্জনা ফেলার মত কোন জায়গা নেই। পৌরসভা থেকে বিষয়টি দেখভাল করা হয় না। তাই ব্যবসায়ীরা স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা স্তম্ভটির সামনে ময়লা-আবজর্না ফেলে রাখে। এসব সময়মতো পৌরসভা থেকে পরিস্কার না করায় পুরো সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারন মানুষকে নাক বন্ধ করে হাঁটতে হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা স্তম্ভটির সামনে আলু-পেয়াজের খোসা, মুরগীর উচ্ছিষ্টসহ পচা সবজি ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানে গরু ও কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। মঞ্চটির ওপর কুকুর ঘুরছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে বিভিন্ন সময় নানা অনুষ্ঠান হতো। এখন আর হয় না। এটিকে উদ্ধার করে আগের রুপে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন তারা।

প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান বলেন, ডাস্টবিন থাকার পর ব্যবসায়ীরা রাতের বেলার এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখে। বিষয়টি নিয়ে সবাইকে ডেকে মিটিং করা হবে। এখন থেকে আর ময়লা ফেলা যাবে না।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে এখানে রাতে পুলিশের সদস্যরা থাকবে। ময়লা ফেললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন,‘ শহরের মূল পয়েন্ট এটি। এখানে স্বাধীনতার একটি স্তম্ভ রয়েছে। একটি মঞ্চ রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠান হতো। ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে এটি। ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। সব ময়লা সরিয়ে নিতে হবে। এখানে আর কোন ময়লা-আবর্জনা ফেলতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের ডেকে তাদের বোঝানো হবে। না শুনলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিষয়টি তুলে ধরলেও এতদিন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দেরিতে হলেও জেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা ভাল দিক। তবে এটির সামনে থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।’

আরো খবর...