কুষ্টিয়ায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা

অধিকমাত্রায় তামাক চাষ

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ায় অধিকমাত্রায় তামাক চাষের কারনে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খরচ বেশী হওয়ায় চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় বোরো ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে তামাক চাষেই ঝুকেছে বেশী কৃষক। উৎপাদন খরচ বেশী ও ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও ক্ষতিকর তামাক চাষ নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় অব্যাহত তামাক চাষ বৃদ্ধি এবছর তা মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হতে পারে। তবে কৃষি বিভাগ বলছেন তামাক চাষের কারনে বোরো আবাদের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না।  কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও এ পর্যন্ত কৃষকরা বোরো ধান বপন করেছেন ১০ হাজার হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কম। বিপরীতে তামাক অধ্যুষিত কুষ্টিয়ার বিস্তির্ণ মাঠ জুড়ে ক্ষতিকর তামাক চাষ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টরেরও বেশী জমিতে। এরমধ্যে দৌলতপুর উপজেলাতেই প্রায় অর্ধেক। বোরো ধান চাষে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকার বেশী খরচ হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে চাষীদের লাভ হয় কম। আবার ধানের দাম কম হওয়ায় লাভের পরিবর্তে অনেক সময় তাদের লোকসানও গুনতে হয়। তাই তারা লাভজনক অর্থকরী ফসল ক্ষতিকর তামাক চাষেই ঝুকছে বেশী। কৃষকদের দাবি ঝুঁকিমুক্ত তামাক চাষে লাভ বেশী। জামাল হোসেন নামে বড়গাংদিয়া এলাকার এক কৃষক অভিযোগ করেন, ধান চাষ করে লাভের পরিবর্তে অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়। কিন্তু তামাক চাষে কখনও লোকসান হয় না। নগদ টাকা বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। তবে তামাক চাষের কারনে বেরো ধান চাষে কোন প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভুষন সরকার। সরকারী প্রনোদনা বেশী দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান চাষে আরো বেশী আগ্রহী হয়ে উঠবে। সেক্ষেত্রে তামাক চাষ অধ্যুষিত কুষ্টিয়ায় তামাক চাষ হ্রাস পাবে। আর এমনটাই মনে করেন এ অঞ্চলের সচেতন মহল।

আরো খবর...