কুষ্টিয়ায় বিলুপ্তির পথে কামার শিল্প

ভেড়ামারা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবনধারা। সেই সাথে বদলে গেছে মানব রুচি। দিন বদলের প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে যেসব শিল্প মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরী করতে পারছে না তাদের প্রথম সারিতে রয়েছে কামার শিল্প। আধুনিকতার চাহিদা মেটাতে না পারায় দিন-দিন পিছিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প। আর কামার শিল্পীদের জীবনে নেমে আসছে চরম দূর্দিন। সম্প্রতি এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক টানাপোড়নে বিপাকে পড়েছে শিল্পীরা। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেও দু’বেলা পেট পুরে খাওয়ার সৌভাগ্য হচ্ছে না তাদের। তাছাড়া অর্থাভাবে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কামার শিল্প তথা কারিগররা। ফলে ইতিমধ্যে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে বাপ-দাদার এ পেশা। দুঃখভরা হৃদয়ে উপজেলার ফিলিপনগর কামার শিল্পের কারিগর সাজদার কর্মকার (৫০) জানান, দেশজুড়ে দা, বটি, খুন্তা, কুড়াল, কোদাল, ছুরি, নিড়ানী, লাঙ্গলের কিছু চাহিদা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেশী হওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে আমাদের। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হচ্ছে লোহা ও ইস্পাত। লোহা ও ইস্পাতের অস্বাভাবিক হারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে কারিগরদের ব্যবহৃত হাতুড়ি, সাঁড়াশিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতির মূল্য। বর্তমানে এক বস্তা কাঠ কয়লা ক্রয় করতে আড়াইশো থেকে ৩ শত টাকা লাগে। যা ২/৩ বছর আগে অর্ধেকেরও কম মূল্যে পাওয়া যেত। অথচ আমাদের তৈরী জিনিসপত্রের দাম খুব একটা বাড়েনি। উপজেলার আল্লারদর্গা হিন্দু পাড়ার কামার শিল্পের সুদিপ্ত কর্মকার বলেন, আমি ২৪  বছর ধরে কামার শিল্পের কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে কয়লা ও লোহার দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া লাভের স্থলে লোকসান শুণতে হচ্ছে। তাই সরকার যদি আমাদের কামার শিল্পের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ায় হয়তো আবার এ শিল্প মাথা উচু করে দাড়াতে পারবে। তাছাড়া এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে ষ্টীল দিয়ে নির্মিত দা, ছুরি, কুড়ালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ বাজারে রেডিমেট কিনতে পাওয়া যায়। তাই অনেকে আমাদের তৈরী জিনিস ক্রয় করতে চায় না। এ কারণেই অনাহারে, অর্ধাহারে আমাদের জীবন হয়ে উঠেছে চরম দুর্বিসহ। বাচ্চাদের লেখা-পড়ার খরচ যোগানোও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় সরকারসহ দেশের সকল বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় এ সম্প্রদায়ের কামার শিল্প কারিগররা।

আরো খবর...