কুষ্টিয়ায় পূজা মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণালংকার লুট

ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের, আটক ৪

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরের কালী প্রতিমা ও লক্ষী দেবীর প্রতিমা ভাংচুর ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করেছে। এদিকে রাতে মন্দিরে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র থানাপাড়া। ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী মন্দির থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির। বুধবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় মন্দিরের কালী প্রতিমা ও লক্ষী দেবীর প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে প্রতিমার স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম বার সহ জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস সহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ জানান, রাতের কোন এক সময়ে কে বা কারা কালি মায়ের মূর্তি ও লক্ষী দেবীর মূর্তি ভাংচুর করেছে এবং প্রতিমার গায়ের স্বর্ণালংকার লুট করেছে। মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু জানান, এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ২০। তারিখ ১৪/৩/২০১৯। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি চাই। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্টের অপচেষ্ঠায় একটি ঘোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, কোন দুষ্ট চক্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রতী নষ্ট করতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকবে পারে। ঘটনা ক্ষতিয়ে দেখে এর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী জানান, আমরা সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে একসাথে বসবাস করে আসছি। এধরনের ঘটনা নিন্দনীয়। ঘটনার তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিচার চাই। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী জানান, আমরা একে অপরের সাথে মিলে মিশে বসবাস করি। কোন অশুভ চক্র এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। যেই এঘটনা ঘটিয়ে থাকুক তার শাস্তি দাবী জানাই। যাতে করে এ ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তি আর না ঘটে। কুষ্টিয়া মডেল থনার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, দোষীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধি সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাস বিশু। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া মডেল থনার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন অর্থ-সম্পাদক দিপঙ্কর দাস। এ সময় কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুন্ডু, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক গৌতম কান্তি চাকী, পৌর সভার কাউন্সিলর খন্দকার মাজেদুল ইসলাম ধীমান, এলাকার সমাজ সেবক আয়ুব হোসেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য তুহিন চাকী, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার নেতা প্রবীর কর্মকার, অসীম পাল, পরিতোষ দাস, থানাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ, পুরহীত বাবলু বাগচী, সদস্য প্রদীপ কুমার ঘোষ সহ স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন-উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...