কুষ্টিয়ায় চাষীদের ঘরে তামাক রেখে জেটিআই কোম্পানি বন্ধ

তামাক চাষীরা নাকাল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল লিঃ (জেটিআই) কোম্পানীর ব্যাপক অনিয়মের কারণে তামাক চাষীরা বিপাকে পড়েছে। তামাক মৌসুমের শুরুতে কোম্পানীর প্রতিনিধিরা চাষীদের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে উৎপাদিত তামাক ক্রয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক জমিতে তামাকের চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। অথচ চাষীদের ঘরে উৎপাদিত তামাক রেখে কুষ্টিয়ায় জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল লিঃ (জেটিআই) কোম্পানীর সকল ক্রয়কেন্দ্র একযোগে বন্ধ করে দেয়ায় চাষীদের মাথায় বাজ পড়েছে। তামাক চাষীদের বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। ঢাকা ট্যোবাকো ইন্ডাট্রিজ লিঃ’র নিকট থেকে মালিকানা ক্রয় করে নতুন সাজে জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল লিঃ (জেটিআই) কোম্পানী ঢাক ঢোল বাজিয়ে মাঠে নামে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাষী জানান, কুষ্টিয়া ক্রয়কেন্দ্রে গুলোতে শুরু থেকে ন্যায্য মূল্যে তামাক ক্রয় করে আসছিলো। কিন্তু চাষীদের ঘরে উৎপাদিত তামাক রেখে কুষ্টিয়ায় জাপান ট্যোবাকো ইন্টারন্যাশনাল লিঃ (জেটিআই) কোম্পানীর সকল ক্রয়কেন্দ্র একযোগে বন্ধ করে দেয়। কুষ্টিয়ায়স্থ তাতিবন্ধ লীফ ডিপো’র ম্যানেজার আক্তার হোসেন তার শ্বশুড় মিরপুর উপজেলার নয়নপুর গ্রামের জহুরুল আলম নান্নু’র নিকট শুরু থেকে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বেল তামাক ক্রয় করে আসছিলো। এছাড়াও অন্যান্য ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ম্যানেজাররা চাষীদের কার্ডে তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিকট তামাক ক্রয় করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তাতিবন্ধ লীফ ডিপো’র ম্যানেজার আক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তামাক বিরোধী জোটের সদস্য সাফ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক জানান, কোম্পানী গুলো নীল চাষের মত তামাক চাষ করে চাষীদেরকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে স্থান না পেয়ে জেটিআই বাংলাদেশে আস্তানা গেড়েছে। এব্যাপারে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, কোম্পানী গুলো চাষীদের উদ্বুদ্ধ করে তামাক চাষ করিয়েছে। তাই তাদের উচিত হবে চাষীদের উৎপাদিত তামাক ক্রয় করে নিতে হবে। এছাড়া তামাক চাষের কারণে খাদ্য শস্য ঘটতি ও এ অঞ্চলের মাটির উর্বতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। তামাক পোড়ানোর কাজে জ্বালানী হিসেবে ব্যাপক হারে কাঠ ব্যবহারের ফলে বনজ সম্পদ বিনষ্ট ও প্রকৃতির পরিবেশ হুমকীর সম্মুখিন হচ্ছে। ভবিষ্যতে চাষীদের তামাকের বিকল্প ফসল আবাদের জন্য আহ্বান জানান। মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম মাসুদ রানা জানান, অধিক হারে তামাক চাষের কারণে মিরপুরসহ পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিবন্ধীর সংখ্যা দেশের অন্যান্য উপজেলার থেকে অনেক বেশি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার জানান, তামাক মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কম। এ সময়ে শিশু শিক্ষার্থীরা ক্ষতিকারক তামাকের কাজ করায় শিক্ষা অর্জন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। চাষীরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে মুক্তি পেতে উৎপাদিত তামাক ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আরো খবর...