কুষ্টিয়ায় চাচার বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা করায় বাদী জেলে

নিজ সংবাদ ॥ বাবা দুলাল চন্দ্র রায়ের হত্যার অভিযোগ এনে আপন চাচা অনুকুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রনজিতপুর গ্রামের বিদ্যুৎ রায়। তবে আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমান হওয়ায এবার উল্টো বিদ্যুৎ চন্দ্র রায়কে কারাগারে যেতে হলো। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় গতকাল মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন বিদ্যুৎ রায়। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে আসামীপক্ষের জেলার মুখে আদালতকে বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় বলেন যে তিনি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন চাচার বিরুদ্ধে। আদালত তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী মিথ্যা মামলা দায়ের করার অপরাধে বিদ্যুৎ রায়কে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত সুত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ রায়ের পিতাকে হত্যার অভিযোগ এনে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় অনুকুল চন্দ্র রায়কে প্রধান আসামী করে মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন, ৩ থেকে৪ বছর আগে অনুকুল চন্দ্রের মেয়ের সাথী রায়ের পাশ্ববর্তি ঝিনাইদহ জেলায় বিবাহ হয়। বিবাহের পর সংসারে অশান্তি ও বনিবনা না হলে অনুকুল রায় মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাথী সংসারে অশান্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমার পিতা দুলাল চন্দ্র রায়কে সন্দেহ করে। এ নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি অনুকুল চন্দ্র আমার পিতাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঘরের হাক দিয়ে তাকে মারপিট করে। পরে দুলাল চন্দ্রকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসার জন্য তাকে নিযে আসতে চাইলেও তিনি আসতে রাজী হননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরদিন তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। চিকিৎসা চলাকালে তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা রাজশাহীতে রেফার্ড করে। রাজশাহী নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ মামলায় চাচাকে একমাত্র আসামী করে বিদ্যুৎ রায়। গতকাল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সকালে আদালতে এজলাসে ওঠেন সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। আসামীপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করে। জেরা শুরুর পর পরই তিনি আদালতের কাজে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, আমি অনুকুলকে জব্দ করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ সত্য নয়। এ মামলা তিনি আর চালাতে চান না। পারিবারিক প্রতিহিংসার কারনে চাচার বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি তিনি আদালতে জানান। এ সময় তার জবাববন্দি নেয়া হয়। ঘটনার পর পর আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী আসামী বিদ্যুৎ কুমারকে ভৎর্সনা করে তার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতে বিদ্যুৎ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের সরকারি কৌশুলী (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন,‘ মিথ্যা মামলা দায়ের করার বিষয়টি আদালতের কাছে স্বীকার করেছে বিদ্যুৎ চন্দ্র রায়। মিথ্যা মামলা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাকে গ্রেফতার করে মামলা দেয়া হয়েছে। আমলি আদালতে তার জবাববন্দির কপিও পাঠানো হয়েছে।

আরো খবর...