কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শেখ রাসেল সেতুর বাধ

ঠেলাঠেলিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি
ক্ষুব্ধ নদী তীরবর্তী মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া গড়াই নদীর ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানির স্রোত আরও বেড়েছে। এতে হুমকি মুখে শেখ রাসেল সেতু। আতঙ্কিত হরিপুরের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

ভাঙনের বিষয়টি বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে জানানো হলেও গত ১৫ দিনে কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। এতে স্থানীয় জনপ্রতিধিসহ বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফকেও জানিয়েছেন হরিপুরের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ।

গত সপ্তাহে সেতুর বাধের ৩০ মিটার পানির স্রোতে বিলীন হয়ে যায়। গত দুই দিনে সেখানে আরও ২০ মিটার এলাকা জুড়ে ভেঙে বিলীণ হয়ে যায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সেতু। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতঙ্কিত।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে বাধগুলো ভেঙে হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হাটশ-হরিপুর এলাকায় সড়ক ও সেতুর দিকে চলে আসছে। এরপরও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বাধ রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই। এতে তারা খুবই ক্ষুব্ধ।

হাটশ-হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ জানান, ‘এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলেও কোন কাজ হচ্ছে। আর কত বলবো। তাই স্থানীয় সাংসদকে বিষয়টি আজ জানানো হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে গড়াই নদীতে ২০১৩ সালে শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ করে। সেতু রক্ষায় হরিপুর অংশে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ৩৪৭ মিটার ও কুষ্টিয়া শহর অংশে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ৩২২ মিটার সংরক্ষণ বাধ নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ২৪ মার্চ সেতুর উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে গড়াই নদে পানি বাড়তে শুরু করে। গত ১৫ দিন আগে হাটশ হরিপুর এলাকায় সেতুর পশ্চিম প্রান্তে এক কিলোমিটার দূরে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে বালুর বস্তা ও জিও কাপড়ের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়। এরপর সেটি সেতু রক্ষা বাধের কাছে এসে পৌছায়। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে পশ্চিমে প্রায় ৩০ মিটার সেতু রক্ষা বাধ ভেঙে তলিয়ে যায়। দেড়’শ মিটারের এই বাধের আরও ২০ মিটার গত রোববার ও সোমবার ভেঙে তলিয়ে যায়। এখন বালুর বাধটি ভেঙে নদের পাশে সড়কের দিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুর বাধটি জরুরীভাবে আজ কালের মধ্যে কোনভাবে রোধ করা না যায় তাহলে ব্লক বাধের বাকি অংশ যেকোন সময় ভেঙে তলিয়ে যাবে। বিষয়টি গত ১৫ দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে বারবার বলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন এলাকায় অর্ধশতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে ভাঙন দেখছে। নদের পাশে বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দা বালুর কিছু বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর বৃথা চেষ্টা করছেন। এদিকে বস্তা ফেলছেন অন্যদিকে বালু ভেঙে সড়কের দিয়ে চলে যাচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কারিবুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, নিরুপায় হয়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। যদি প্রশাসন থেকে একটু ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে হয়তো রাতের বেলায় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতেন। কিন্তু কেউ কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এসময় সেখানে ছুটে আসেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ। তাকে দেখে এক নারী বলেন, ‘ম্যাডাম আমাদের বাঁচান। যেভাবে ভাঙছে, নদের পানির গর্জনে খুবই ভয়ে আছি। আমরা এখন কোথায় যাবো। কখন ভেঙে সব নিয়ে যাবে।’

চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বারবার পাউবো ও এলজিইডিকে জানাচ্ছেন। কিন্তু তারা কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনিসহ এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। আপাতত কোন উদ্যোগের ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। সেজন্য কিছু করা যাচ্ছে না। আর বাধটি যেহেতু এলজিইডি করেছে সুতরাং তারাই একটা ব্যবস্থা নিতে পারে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম শাহেদুর রহিম বলেন, সেতু তৈরির সময় বাধটি করা হয়েছিল। সেময় বাধ রক্ষার জন্য আরও দীর্ঘ একটি বাধ নির্মাণের জন্য পাউবো চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। এখন ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তারা কোন কিছু জানায়নি। আবারও জানানো হবে।

আরো খবর...