কুষ্টিয়ায় গ্রামে গিয়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনলেন জেলা প্রশাসন ও খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গ্রামে গিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলেন জেলা প্রশাসক ও খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা। গতকাল বুবধার দুপুরে সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়া গ্রামে গিয়ে ১৩জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়। প্রতিকেজি ধান কেনা হয় ২৬ টাকা দরে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ, জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক ও আলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন শেখ।

জেলা খাদ্য অফিস সুত্র জানিয়েছে, কৃষকরা যাতে ধানের দাম পায় ও প্রকৃত কৃষক যাতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারে সেজন্য সদর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার যাছাই-বাছাই করে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এবার কুষ্টিয়া জেলা থেকে ১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান কেনা হচ্ছে। আর সদর উপজেলা থেকে কেনা হচ্ছে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ সারা দেশে কৃষকরা ঠিক মত ধানের বাজার দর পাচ্ছেন না। তাই কুষ্টিয়ায় গ্রামে গিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা প্রকৃত দাম পায়। সরাসারি কৃষকদের তালিকা করে দেয়া হয়েছে। একজন কৃষক কমপক্ষে আধা টন ধান সরকারকে দিতে পারবে।

ধান বিক্রি করতে আসা দহকুলা গ্রামের কৃষক মোশাররফ ও শের আলী বলেন,‘ সিন্ডিকেটের কারনে তারা সরকারি গোডাউনে ধান দিতে পারেন না। তবে এবার গ্রামে এসে ধান কেনায় তারা সহজেই ধান বিক্রি করতে পারবেন। এতে কৃষকরা হয়রানী হবে না। ২৬ টাকা কেজি ধান বিক্রি করে তাদের লাভ থাকছে। তবে ধান কেনার পরিমান আরও বাড়ানোর দাবি করেন তারা।

কৃষক আছের আলী ও মহররম জানান,‘ কমপক্ষে প্রতিটি উপজেলা থেকে ২ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা উচিত। তাতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতো। এতো অল্প ধান কেনায় সব কৃষক এ সুবিধা পাবে না। তারপরও জেলা প্রশাসন থেকে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা কৃষকদের জন্য ভাল হবে।

প্রথম দিনে আলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১৩ জন কৃষক ধান বিক্রি করতে আসেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তারা এভাবে ধান করতে পেরে বেশ আনন্দিত।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কোন ফরিয়া বা দালালের কাছ থেকে ধান কেনার  কোন সুযোগ নেয়।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন,‘ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করে তাদের কাছ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধান কেনা হবে। কোন ভাবেই কোন সিন্ডিকেট ধান দিতে পারবে না। এতে করে কৃষকরা হয়রানী হবে না। ২৬ টাকা কেজি ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবে। বেশি সংখ্যক কৃষক যাতে ধান বিক্রি করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমপক্ষে ৪০জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা হবে।

আরো খবর...