কুষ্টিয়ায় উপজেলার মাসিক সভা শেষে পশ্চিম আব্দালপুর ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন আটক

পরিবারের অভিযোগ ওসি রতন শেখ’র ব্যক্তি আক্রোশের শিকার চেয়ারম্যান
পাশের ইউনিয়নে ঘটা নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদে মাসিক আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় যোগদান শেষে বের হলে আলী হায়দার স্বপন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। আলী হায়দার স্বপন সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আটকের এক ঘন্টার মধ্যেই পাশের ইউনিয়নের একটি নাশকতা মামলায় সন্দেহজনক আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ ইবি থানার ওসি রতন শেখ ব্যক্তিগত রাগ থেকে উপজেলা চত্বর থেকে জোরপুর্বক ধরে মিথ্যা মামলায় চালান দিয়েছে।’

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শি সুত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাসিক আইন শৃংখলা বিষয়ক কমিটির মিটিং শুরু হয়। সেখানে আলী হায়দার স্বপনসহ ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। মিটিং শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সাথে আলাপ শেষে তিনি নিচে নামেন। তার সাথে নেমে আসেন ইবি থানার ওসি রতন শেখও। নিচে নেমে কয়েক পা হাটার পর কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি জোরপুর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান বাঁধা দেয়। পরে তাকে টেনে হেঁচড়ে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

চেয়ারম্যানের সাথে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শি একজন জানান, নিচে নামার পর পরই চেয়ারম্যানকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী। এ সময় পাশেই ওসি রতন শেখ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

চেয়ারম্যানকে আটক করে পুলিশ লাইনে ডিবি অফিসে বসিয়ে রেখে আধাঘন্টার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্র“য়ারি পাশের উজানগ্রাম ইউনিয়নে মারামারি সংক্রান্ত একটি মামলার সন্দেহজনক আসামী হিসেবে কোর্টে প্রেরণ করে। কোর্ট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। যে মামলায় চেয়ারম্যান স্বপনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে একই মাললায় উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নিরীহ লোকজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাও জেলে আছে একই মামলায়। মামলাটির বাদি ইবি থানার এসআই বাবুল হোসেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, আজ (গতকাল) মিটিং ছিল। আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপনও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তিনি বের হওয়ার পর তাকে ধরে নিয়ে কিছু লোক। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অবহিত করেছি।’

কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের ( ডিবি ) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  সিকদার আক্কাস আলী বলেন, উজানগ্রাম ইউনিয়নের একটি মারামারির মামলায় সন্দেহজনক আসামী হিসেবে তাকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার বাদি ইবি থানার একজন এসআই।

আলী হায়দার স্বপনের পিতা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তার আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন,‘ সম্প্রতি এলাকার তিনটি হাট সরকারকে বেশি রাজস্ব দিয়ে ডেকে নেন স্বপন চেয়ারম্যানের লোকজন। ওসি রতন শেখের অনুগত কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা হাট না পাওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন তিনিসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা। ওইসব নেতাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত রাগ মেটাতে ওসি উপজেলা চত্বর থেকে ধরে এনে মিথ্যা মামলায় চালানা দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি স্বপন চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই মইনুদ্দিনকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার মোস্তাফার লোকজন। ওই মামলায় মোস্তফাজন অন্যরা জেলে রয়েছে। মোস্তফার অনুগত অন্য নেতাদের সাথে ওসির ভাল সম্পর্ক থাকায় তারা টাকা পয়সা দিয়ে চেয়ারম্যান স্বপনকে নাজেহাল করছে।

আলী হায়দার স্বপনের পিতা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ইসহাক আলী মাষ্টার বলেন, পাশের ইউনিয়নের একটি মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে আটক করে হয়রানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। ওসি ব্যক্তিগত আক্রশ থেকে আমার ছেলেকে আটক করে মামলা দিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, তার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। পাশের ইউনিয়নের একটি মামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ। তারা যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন।’

আরো খবর...