কুষ্টিয়ার মামুনের মধু যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়

জহুরুল ইসলাম ॥ এবার সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে কুষ্টিয়ায় উৎপাদিত মধু। এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ কুষ্টিয়ার মিরপুরের মৌচাষী মামুন। তিনি সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। এখন স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সেই মধু অষ্ট্রেলিয়াতে রফতানি শুরু করেছেন তিনি। বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। মামুনের দেখাদেখি অনেকইে এখন মৌচাষে উদ্যোগি হচ্ছেন। মামুনের মৌচাষের চাষের শুরু ১৯৯৭ সালে। তার ভাষ্য, ‘৯৭ সালে মাস্টার্স পাস করার পর চাকরীর পিছনে না ছুটে নিজে কিছু করার কথা ভাবছিলাম। তখন মৌমাছি পালন করে মধু উৎপাদনের কথা মাথায আসে। ২৬০০ টাকা দিয়ে দুটি বাক্স কিনে ওই বছরই শুরু করি মৌমাছি পালন।’ সেই থেকে মামুন সরিষা, কালজিরা, লিচু, কুলসহ বিভিন্ন ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে আসছেন। ধীরে ধীরে মামুনের মৌ চাসের পরিধি বেড়েছে। আগে তিনি উৎপাদিত মধু স্থানীয়ভাবেই বিক্রি করে আসছিলেন। পরে ফেসবুকে পরিচয় হয় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি এক বাংলাদেশি যুবকের সাথে। তার সহায়তায় মামুন গেল বছর থেকে মধু প্রক্রিয়াজাত করে অষ্ট্রেলিয়াতে রফতানি শুরু করছেন। চলতি সরিষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন স্থানে মৌমাছির ৩০০টি বাক্স বসিয়েছেন মামুন। এর থেকে তিনি প্রায় ৮০ টন মধু আহরণের আশা করছেন। এর বড় একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে। এই মৌচাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন এক সমযের বেকার যুবক মামুন। মামুন জানান, অন্য ফুলের মধু শীতকালে জমে না গেলেও সরিষা ফুলের মধু জমে যায়। এ কারণে মানুষের মধ্যে সরিষা ফুলের মধু নিয়ে কিছুটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এই ধারণা দূর করা গেলে সরিষা ফুলের মধু আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।

মামুনের মৌ খামারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা সুস্বাদু মধু। এই কাজে মামুনের সহযোগী হিসেবে বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। মামুনের খামারে উৎপাদিত মধুতে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো হয়না। ক্রেতাদের সামনেই মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। তাই এলাকার মানুষ মাত্র ৩শ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকায় এক কেজি খাঁটি মধু পেয়ে এলাকাবাসী বেজায় খুশি।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, এবছর কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বিপুল পরিমান মধু উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে সরিষা ক্ষেতে বিপুল পরিমান মৌমাছির বিচরণের ফলে সুষম পরাগায়ন হচ্ছে। এতে সরিষার ফলন বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের জন্য মৌ চাষে সহযোগীতা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আরো বড় পরিসরে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করলে দেশের চাহিদা পুরণ করে বিপুল পরিমান মধু বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

 

 

আরো খবর...