কুমারখালীতে ভোক্তা কমিটির মাসিক আলোচনা সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায়, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভোক্তা কমিটির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১ টায় নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে ভোক্তা কমিটির সদস্য ও মুরগি খামারিরা অংশগ্রহণ করে। কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নওশের আলী বিশ্বাস এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভার শুরুতেই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা ও মাসিক আলোচনা সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র। খাদ্য নিরাপদতায় ও ভোক্তা কমিটির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং সহ নানাদিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আরিফুজ্জামান, ভোক্তা কমিটির সদস্য ও কুমারখালী বণিক সমিতির সভাপতি কেএম আলম টমে, সাংবাদিক হাবীব চৌহান, সদস্য শুকুমার বিশ্বাস, ভোক্তা কমিটির সদস্য প্রভাষক আরিফুজ্জামান, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য শিউলি খাতুন, সদস্য সীমা আক্তার প্রমূখ। আলোচনা সভায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, পশুখাদ্য আইন ও বিধি মোতাবেক লাইসেন্স গ্রহণ ও নিরাপদ পশুখাদ্য বিক্রয়, পশুখাদ্য বিক্রয়কারক হিসাবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পেতে করণীয়, রাসায়নিক দূষণমুক্ত নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ব্যবস্থা সহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জবাই পদ্ধতি অনুশীলন, বাজারে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়া হ্রাস, উত্তম স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, বাজারে রোগ-জীবানুর অনুপ্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ, শুধুমাত্র সুস্থ্য মুরগি ক্রয় ও বিক্রয়, ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত মানসম্পন্ন খাদ্য ক্রয়, ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত মানসম্পন্ন ভিটামিন ও মিনারেল ক্রয়, ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যমুক্ত নিরাপদ ও পরিস্কার পানি ব্যবহার, প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধ, খাদ্য, ঔষধ ও পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যদ্বারা দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করা, মুরগির খামারকে পৃথকীকরণের মাধ্যমে সুরক্ষা, নিরাপদ উৎপাদন উপকরণ ব্যবহার, খামার ব্যবস্থাপনা ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম অনুসরণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি অনুশীলন সহ মুরগি পালনে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যকেও সচেতন করে তোলার মাধ্যমে ভোক্তার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ ছাড়াও ২০১০ সালের মৎস্য ও পশুখাদ্য আইনের আওতায় খামারি ও ডিলারদের রেজিষ্ট্রেশন ও লাইসেন্স গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উল্লেখ্য, দেশের বেকার যুবক-যুব মহিলারা মুরগী খামার স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কারণে দিনে দিনে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে যাচ্ছে। তুলনামূলক দামে সস্তা হওয়ায়  দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগী। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিন্মমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রারিক্তি ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। এ জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের লক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে ভোক্তা সাধারন, সিভিল সোসাইটি, মুরগী খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা, ডিলার ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার গতিপথ প্রদর্শনের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আরো খবর...