কুমারখালীতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, খামারি, ডিলার ও ভোক্তা কমিটির সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায়, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, খামারি, ডিলার (পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা) ও ভোক্তা কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩ টায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের সভাকক্ষে এই মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নূর আলম সিদ্দিকী। আলোচনা সভার শুরুতেই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা ও মাসিক আলোচনা সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র। আলোচনা সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় খামার রেজিষ্ট্রেশন, খামার পরিচালনা ও মুরগি পরিচর্যার কৌশল পরিবর্তন, মাত্রাতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার, নিরাপদ পোল্ট্রি ফিড সরবরাহ ও নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ভোক্তা কমিটির সদস্যরা নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের খামার মনিটরিং কার্যক্রম ও প্রতিটি পোল্ট্রি খামার রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান। সভায় প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: নুর আলম সিদ্দিকী খামারি ও ডিলারদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে নিরাপদ পোল্ট্রি ফিড ও মুরগি বাজারজাত করণের নির্দিষ্ট সময়ের আগে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকবে হবে। এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনবহুল এলাকায় খামার স্থাপন না করার আহবান জানান তিনি। উল্লেখ্য, দেশের বেকার যুবক-যুব মহিলারা মুরগী খামার স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কারণে দিনে দিনে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে যাচ্ছে। তুলনামূলক দামে সস্তা হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগী। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিন্মমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রারিক্তি ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। এ জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের লক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে ভোক্তা সাধারন, সিভিল সোসাইটি, মুরগী খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা, ডিলার ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার গতিপথ প্রদর্শনের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আরো খবর...