কুমারখালীতে গৃহবধু ফাতিমার আত্মহত্যার নেপথ্যে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পারিবারিক কলহের জেরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী  পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাটিকামারা গ্রামের রাজুর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি চক্র। এ ঘটনার প্রকৃত কাহিনী উদঘাটনে নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃত সত্য ঘটনা। অথচ মিথ্যা পরকিয়ার নাটক সাজিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে ফাতিমার স্বামী রাজু। আর এই কাজে সহযোগিতা করছে তার নেশার সঙ্গীরা। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে  নেশাগ্রস্ত রাজু তার স্ত্রী ফাতিমাকে মরধরসহ যৌতুক দাবি করে আসছিল। একসময় এই দুই পরিবারে সম্পদ থাকলেও বর্তমানে  পৈত্রিক বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। রাজুর বেকার জীবনে দুই সন্তানের ভরণপোষনে হিমসিম অবস্থা। এরপর আবার নেশার টাকা জোগাড় করতে আরো বেকায়দায় পড়তে হয়। একারণে তাদের সংসারে বিবাদ লেগেই থাকতো। আর তার স্ত্রী ফাতিমার বাবা একসময় বড় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর এখন তেমন  কোনো সম্পদ-সম্পত্তি নেই। এরপরও নেশাগ্রস্ত রাজুর টাকার আবদার পূরণ করতে না পেরে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। কারণ ভাইদের সংসারে ফাতিমার মা থাকেন। তারাও নিরুপায়। এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এরইমধ্যে রাজুর ভাবি আন্নার উষ্কানিতে বেশ কয়েকবার ফাতিমাকে বের করে  দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিরুপায় ফাতিমা নির্যাতন সহ্য করেই শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। একই বিরোধে ৯ ফেব্র“য়ারি শনিবারও তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এরপর রাজু বাড়ি থেকে বের হয়ে  গেলে ফাতিমা দুই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে রান্না শুরু করেছে। ভাত-ডাল-ভাজি রান্নার পর বড় জা আন্না তার সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। এক পর্যায়ে ফাতিমা বাড়িতে থাকা হারপিক পান করে। এ ঘটনার পরপরই তাকে কুমারখালী হাসপাতাল এবং পরে কুষ্টিয়া  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মারা যায়। এরপর নিজেকে রক্ষা করতে পারিবারিক বিরোধ এবং নির্যাতনের বিষয়টি আড়াল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে রাজু। তার সঙ্গে যোগ দেয় দীর্ঘদিনের নেশার সহযোগিরা। হাসপাতালেই ফাতিমার ছোট বোন এবং মাকে জোরপূর্বক লিখে নেয়ার চেষ্টা করে, পরবর্তিতে তারা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবে না এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ হাসপাতাল থেকে বের করার  চেষ্টা চালায়। কিন্তু ফাতিমার দুই ভাই তখনও হাসপাতালে না  পৌঁছানো এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে। এরপরও এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজনকে দিয়ে তৎপরতা চালাতে থাকে। তবে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে পোস্টমর্টেম শেষে রোববার বিকেলে বাটিকামারা কবরস্থানে ফাতিমাকে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে, জেল-হাজত খাটা রাজুর নেশার সঙ্গীরা ফাতিমার ছোট  বোনের জামাইয়ের সঙ্গে পরকিয়ার নাটক সাজিয়েছে। তারা সঙ্গে নিয়েছে সাংবাদিক নামধারি কয়েকজনকে। যারা ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। জানা গেছে, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে এরআগেও বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ফাতিমা। এবার আত্মহত্যার আগে স্বামী রাজু এবং বড় জা আন্নাকে দায়ি করে একটি চিরকুটও লিখে যায় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে। তবে, ফাতিমাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই রাজু এবং তার ভাবি আন্না  সেই চিরকুট গায়েব করে দেয়। এও জানা গেছে, ফাতিমাকে বাড়ি ছাড়া করা গেলে পুরো সংসারের কর্তৃত্ব পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে নানা উষ্কানিমূলক কথা বলে রাজুর কান ভারি করে আসছিল তার ভাবি আন্না। রাজুর পাশের বাড়ির এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফাতিমাকে মাঝেমধ্যেই মারধর করতো রাজু। আর বাড়িতেই স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে নেশার আড্ডা বসাতো। ফাতিমা ভাল মেয়ে ছিল বলেই এতোদিন সংসার করেছে। তার ভাবি আন্না এবং রাজুর কুটচালেই ফাতিমা আত্মহত্যা করেছে বলে জানান তিনি। তিনি এও জানান, দেখলাম রাজু এবং তার নেশার সঙ্গীরা এখন খুব তৎপর। যারা সন্ধ্যার পর ওদের বাড়ির আঙিনায় নেশার আড্ডা বসায়। তারাই এখন নেশার অন্যতম সঙ্গী রাজুকে রক্ষা করতে পরকিয়ার নাটক সাজিয়েছে। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন- “কেউ পরকিয়া করলেই কি আত্মহত্যা করে? ” প্রকৃত অপরাধী রাজু এবং তার ভাবি আন্না। এই দু’জনের বিচার হওয়া উচিত। আর যারা ফেসবুক-ইউটিউবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়ায়ে অনেকের মানহানি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হওয়া উচিত। পারিবারিক কলোহের জেরে একজন গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। তার পেছনে বা আগে ঘটনা যাই থাকুক তার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করাই একজন সংবাদ কর্মির কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু তা না করে এক পেশে প্রকৃত তথ্যকে বাদ দিয়ে মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করা প্রকৃত সাংবাদিকতার পরীপন্থি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।

আরো খবর...