কালুখালীতে কয়েকশত বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে উপজেলার ১নং রতনদিয়া ইউপির চর এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। রাজবাড়ী সেনা ক্যাম্প নামক পিলার হতে সোয়া কিলোমিটার এসবিবি ইটের রাস্তার কিছু অংশ ও সাদার বাজার সম্পুর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও লস্করদিয়া নারায়নপুর গ্রামের কয়েকশত বাড়ীঘর নদীভাঙ্গনের কবলে বিলীন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পরিদর্শন করেন কালুখালী উপজেলা প্রকৌশলী ননী গোপাল দাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী আজাদুর রহমান। বিগত ২ বছর আগে রাজবাড়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য চর এলাকায় ৩৫শত ১৪ একর জমির মধ্যে ১৪ শত একর অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এবং যাতায়াতের জন্য ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার এসবিবি রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই রাস্তার বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ঐ ইট অন্যত্র সরিয়ে আনার জন্য উপ সহকারী প্রকৌশলী এসএম আজাদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এসময় রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান হিটু, সাবেক ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম, সাবু ও কুদ্দুস সহ চর এলাকার অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন। সাদার বাজারের কালের স্বাক্ষী শতবছরের বট গাছটি গতকাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি এলাকাবাসীর সাথে ইউপি চেয়ারম্যান অবলোকন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন রাজবাড়ী জেলার মধ্যে কালুখালী উপজেলার ১নং রতনদিয়া ইউনিয়নে চর এলাকায় ২০/২২ হাজার লোকের বসবাস। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীণ হওয়ায় ঐ গ্রামের মানুষেরা অসহায় জীবন যাপণ করছে। যেভাবে নদীভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে সরকারী ভাবে পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা দেখা দেবে। এছাড়াও তিনি বলেন বর্তমানে এই অসহায় মানুষের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ত্রানের ব্যবস্থা করলে তারা উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, পাংশা হাবাসপুর উজান পয়েন্টে ডিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে নদীতে ড্রেসিং করে পাবনার অংশ বালু ফেলার  কারণে এ ভাঙ্গণের সৃষ্টি হচ্ছে। অতিসত্তর সরকারীভাবে এর প্রতিকারের পদক্ষেপ না নিলে কালুখালীর ১০টা মৌজা এবং প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাসের সম্পুর্ন জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। যার ভয়াবহতা কালুখালী উপজেলায় আঘাত আনবে।

আরো খবর...