কারাগারে চিকিৎসায় ব্যক্তিগত চিকিৎসক চান খালেদা জিয়া

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত হয়ে পুরনো ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার নাইকো মামলার শুনানি শেষে আদালতে এই আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। কারাগারে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে বিএনপিনেত্রীর চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে নাইকো মামলার শুনানি হয়। দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। ১২টা ২৮ মিনিটে বিচারক তার এজলাসে আসার পর শুনানি শুরু হয়। ২টা ৫ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়। শুনানিকালে প্রায়  ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে বসেছিলেন। শুনানি শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানিতে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার চিকিৎসার একটি আদেশ দেন। এরপর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসার শেষ না করেই উনাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়।’ ‘বর্তমানে উনার (খালেদা) শারীরিক অবস্থা ভালো না। উনার শারীরিক সমস্যাগুলো বাড়ছে। এখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হোক।’ বিচারক বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশটি আদালতে দাখিল করেন। আমি দেখে পরে আদেশ দেবো।’ শুনানিতে খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বোরহান উদ্দিনসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা অগ্নিকাল্ডে  ক্ষতিগ্রস্থ হয় ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার কারণে নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা। নাইকোর গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা হয়েছে বলে বাপেক্সের তদন্তে উঠে আসে। এদিকে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানায় নাইকো। এ বিষয়ে তাদের কোনও গাফিলতি হয়নি বলে দাবি করে নাইকো। এই ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে নাইকো লন্ডনে বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (ইকসিড) মামলা করে। একইসঙ্গে বাপেক্সও এই ক্ষতি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বিশেষ জজ আদালত ৯-এ বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে খালেদার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামসহ আরো বেশ কয়েকজন আসামি রয়েছেন।

 

আরো খবর...