কলেজ জাতীয়করন হওয়ায় এমপিকে খুশি করতে অধ্যক্ষের মহতি উদ্যোগ!

কুষ্টিয়া খোকসা কলেজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা কলেজটি সম্প্রতি জাতীয়করন করেছে সরকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রউফের সুপারিশে কলেজটিকে জাতীয়করন করা হয়েছে। এদিকে কলেজটি জাতীয়করন হওয়ায় অধ্যক্ষ আনিস উজ জামান এমপিকে খুশি করতে সব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলে এমপিকে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। চাঁদা তোলার জন্য অধ্যক্ষ একটি কমিটিও করে দিয়েছেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদার ১৩ লাখ টাকা তুলে এমপিকে দেয়া লাগবে বলে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন।

জানা গেছে, খোকসা উপজেলার মধ্যে কয়েকটি কলেজ জাতীয়করনের তালিকায় ছিল। এর মধ্যে খোকসা কলেজ, অপরটি শোমসপুর ডিগ্রী কলেজ। খোকসা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আনিস উজ জামান বিশেষ তদ্ববির করে শোমসপুরকে পিছনে ফেলে কলেজটি জাতীয়করণ করিয়ে নেন। চলতি বছরের ৮ আগষ্ট কলেজটি জাতীয়করন করা হয়। এ কলেজটির সভাপতি খোকসা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত’র ভাই আমিন মোর্শেদ। শান্ত এমপির ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। আমিন মোর্শেদ ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘এর আগে জাতীয়করনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও ঢাকায় যাতায়াত খরচ বাবদ তাদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা তোলা হয়। জাতীয়করনের পর এখন নতুন করে এমপিকে দেয়ার কথা বলে অধ্যক্ষ প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে মাথাপিছু ১৩ হাজার, কর্মকর্তাদের কাছে ১২ হাজার ও চতুর্থ শ্রেণীর কাছে ১২ হাজার টাকা করে চাঁদা ধার্য করে দিয়েছে। চাঁদা উত্তোলনের জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যদের কাছে এ অর্থ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি যাতে গোপনীয় থাকে সে জন্যও সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, খোকসা ডিগ্রী কলেজে ৭৯জন শিক্ষক আছেন। এর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আছেন ১৭জন। এদিকে চাঁদা আদায়ের জন্য অধ্যক্ষ আনিস উজ জামান একটি কমিটি করে দিয়েছেন। সেই কমিটিতে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করা হয়। এছাড়া এই কমিটিতে অর্থনীতি বিভাগের প্রধান আনিসুর রহমানসহ অন্যান্য বিভাগের ১২জন শিক্ষক আছেন। ইতিমধ্যে টাকার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সকলকে জানানো হয়েছে। দ্রুত টাকা দেয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে, যাতে দু’একদিনের মধ্যে টাকা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা হলে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনিসুজ্জামান বলেন,‘  ২০১৬ সালে কলেজ জাতীয়করনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিই এখনো আছে। তবে সাংসদকে টাকা  দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়টি তার নলেজেই নেই।

তবে অর্থ তোলা কমিটির সভাপতি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ আগে খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য খরচের জন্য কিছু টাকা তোলা হয়েছিল। তবে এখন কোন টাকা তোলা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাংসদ আব্দুর রউফ বলেন, আমি জাতীয়করন করে দিয়েছি, টাকা নেয়ার প্রশ্নই উঠে না, প্রশ্নই উঠে না। কারা টাকা তুলছে আমি প্রয়োজনে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

আরো খবর...