একজোড়া নতুন স্নিকার্স কিনে দিয়েছিল : সোনম কাপুর

বিনোদন বাজার ॥ গত ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে সোনম কাপুর অভিনীত ছবি ‘এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’। ছবিতে বাবা অনিল কাপুরের সঙ্গে পর্দা শেয়ার করেছেন সোনম। বিয়ে এবং বাবার সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেন সোনম কাপুর। পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষবাবা অনিল কাপুরের সঙ্গে কাজ করতে অনেক দেরি হয়ে গেল কী?সোনম : ক্যারিয়ারের শুরুতেই ঠিক করেছিলাম যে, কাউকে দেখানোর জন্য আমি বাবার সঙ্গে কাজ করব না। এমনিতেই বলা হয়, সোনম মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছে। তাই প্রথম থেকে চেষ্টা করেছিলাম, নিজের একটা আলাদা রাস্তা তৈরি করতে। প্রথম কয়েকটা ছবি আমার পদবির জন্য এলেও আমি জানতাম নিজের কাজের মধ্য দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ‘এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’র স্ক্রিপ্টটা ভীষণ ভালো। আমার এবং বাবার দুজনেরই মনে হয়েছিল এই ছবিটার জন্য রিয়্যাল লাইফ বাবা-মেয়ের রসায়ন প্রয়োজন। বাবা ছাড়া এই চরিত্রটা আর কেউ করতে পারতও না।আপনার আর রিয়ার প্রযোজনা সংস্থার ছবিতে বাবাকে কাস্ট করেন না কেন? উনি তো এই নিয়ে অনুযোগও করেন!সোনম : আমি আর রিয়া আগে নিজেদের কথা ভাবি! আসলে আমরা ভয় পাই। বাবাকে সব কিছুতে ইনভলভ করলে আবার শুনতে হবে, বাবা মেয়েদের সাহায্য করছে। তাই ‘আয়েশা’, ‘খুবসুরত’, ‘বীরে দি ওয়েডিং’ সব ছবিই নিজেদের চেষ্টায় বানিয়েছি।অনিল কাপুর বলেন, সোনমের মধ্যে একজন পরিচালক লুকিয়ে আছে।সোনম : ঠিকই। আমার মধ্যে পরিচালক সত্তা আছে। তবে অভিনয় করতে সবচেয়ে ভালোবাসি। মাথায় সবসময় সিনেমার কথা ঘোরে। অভিনয় নিয়ে একেবারেই কম্পিটিটিভ নই। কোনো নায়িকা ভালো কাজ করলে খুব খুশি হই। অভিনেত্রী হিসেবে ভালো সময় যাচ্ছে। পরিচালকের কাজ অনেক কঠিন। সময় লাগবে। লেখালিখির জন্য সময় বের করতে হবে। অভিনয় থেকে ব্রেক নিতে হবে।বলা হচ্ছে, ‘এক লাড়কি’তে আপনার চরিত্রটা করতে সাহস প্রয়োজন..সোনম : আমার মতে সাহসটাই সব নয়, চরিত্রের বাছাইটাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারে সেই সব চরিত্র করেছি, যেগুলো এন্টারটেনিং লেগেছে। এ ছাড়া আমি ভাগ্যবান। আমার কাছে ভালো চরিত্রগুলোই এসে পৌঁছেছে। সাহসের চেয়ে আমার ভাগ্য বেশি কাজ করেছে বলে মনে হয়। সেই কারণেই ‘ভাগ মিলখা ভাগ’, ‘সঞ্জু’, ‘প্যাডম্যান’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছি।প্রথমবার আপনাকে দেখার পর আনন্দ কি বলেছিলেন, ‘এক লাড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লাগা’?

সোনম : আপনারা হয়তো জানেন, আনন্দ স্নিকার্সের জন্য পাগল। ওর মতে, আমাদের প্রথম দেখার সময় আমি খুব খারাপ দেখতে স্নিকার্স পরেছিলাম। সেটা ও আমাকে বলেছিল। তার পর একজোড়া নতুন স্নিকার্স কিনে দিয়েছিল। ওর নিজের কালেকশন খুব ভালো।আনন্দকে প্রথমবার দেখে কী মনে হয়েছিল?সোনম : ভীষণ সুপুরুষ লেগেছিল। আগে ওর মাথায় অনেক চুল ছিল। আনন্দ ওয়ার্কআউট করতে ভীষণ ভালোবাসে। তাই যাতে বেশি ঘাম না হয়, তার জন্য সব চুল কেটে ফেলে। এখন আমার ইচ্ছাতে আবার চুল বড় করছে! আমি যেমন খুব চঞ্চল, আনন্দ কিন্তু শান্ত আর কেয়ারিং।বিয়ের পরে সব কিছু ব্যালান্স করা কঠিন হচ্ছে? বিশেষ করে আপনাদের দুজনকে অনেক ট্র্যাভেল করতে হয়।সোনম : ঠিকই বলেছেন। আমার আর আনন্দের প্রাথমিক চাহিদা হচ্ছে কাজ। আর তার জন্য ট্র্যাভেলিং ইজ মাস্ট। বিয়ের পরে জীবনটা কঠিন হয়ে গেলেও আমি ব্যাপারটা উপভোগ করছি।অনিল কাপুর বলেন, আপনার আর ওর মধ্যে রোল রিভার্সাল হয়েছে।সোনম : একদম ঠিক। বিয়ের পরে বাবা-মায়ের প্রতি টান আরো বেড়েছে। আমার মা সব সময়ে বলেন, ডটার্স আর ব্লেসিংস। একজন মেয়ে যেভাবে তার বাবা-মাকে দেখাশোনা করতে পারে, একটা ছেলে সেভাবে পারে না। আমারও তাই মত। বাবা-মায়ের জন্য উদ্বেগে থাকি।

আরো খবর...