উইন্ডিজের নতুন ভারপ্রাপ্ত কোচ ফ্লয়েড রিফার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসার পর আভাস মিলছিল আরও অনেক পরিবর্তনের। সেসবের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাসকে। পাইবাসের বদলে নতুন ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফ্লয়েড রিফার। সাবেক এই অধিনায়কের কোচিংয়েই আসছে বিশ্বকাপে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাশাপাশি বরখাস্ত করা হয়েছে কোর্টনি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটিকেও। নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচক সাবেক লেগ স্পিনার রবার্ট হেইন্স। সম্প্রতি ভোটের লড়াইয়ের ডেভ ক্যামেরনকে হারিয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন রিকি স্কেরিট। দায়িত্ব নিয়ে তিনি শুরুতেই জাতীয় দলের কোচিং ও দল নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছেন। তার পরই এসেছে এসব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের সাবেক কোচ পাইবাস তার ক্যারিয়ারে আরও কয়েকবার বরখাস্ত হয়েছেন নানা দলের দায়িত্ব থেকে। পাইবাসের কোচিংয়ে কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভাবনীয়ভাবে সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তাকে সরিয়ে দেওয়া খুব বিস্ময়কর নয়। তার পরিচিতি ছিল আগের বোর্ড প্রধান ক্যামেরনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে। গত বছর স্টুয়ার্ট ল কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কোচ হিসেবে ১১ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করেছিলেন বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালক জিমি অ্যাডামস। সেই ১১ জনে ছিল না পাইবাসের নাম। ক্যামেরন তবু দায়িত্ব দিয়েছিলেন পাইবাসকেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে নানা ভূমিকায় ছিলেন পাইবাস। সেখানেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অনেক। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে না খেললে জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে না বলে যে নিয়ম নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলে আসছে, সেটির পেছনেও অন্যতম ভূমিকা ছিল পাইবাসের। এই নিয়মের কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মহাতারকাদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাইরে বা অনিয়মিত। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসেবে দারুণ সাফল্য পেয়ে পাইবাস পরিচিতি পেয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তার বিদায় সুখকর হয়নি। কাউন্টি ক্রিকেটসহ আরও কয়েকটি দলেও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। এবার অবশ্য একবারে ছুঁড়ে ফেলা হয়নি তাকে, কাজ করবেন হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে। পাইবাস ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পাওয়ার আগে সম্ভাব্য কোচ হিসেবে আলোচনায় ছিলেন রিফার। সেবার তাকে সাক্ষাৎকারে না ডেকেই পাইবাসকে কোচ করায় বেশ ক্ষোভও জানিয়েছিলেন। এবার তার ওপর আস্থা রাখল বোর্ড। দারুণ সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক রিফারের। তবে সুবিধা করতে না পেরে বাদ পড়ে যান। ২০০৯ সালে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে যখন শীর্ষ ক্রিকেটাররা বিদ্রোহ করেন, তখন অধিনায়ক করে ১০ বছর পর রিফারকে ফেরানো হয় বাংলোদেশের বিপক্ষে সিরিজে। সেবারও ভালো করতে পারেননি। ওই বছরের পর আর কখনও সুযোগ পাননি। পরে নাম লেখান কোচিংয়ে। কোচ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট বেশ সাড়া জাগিয়েছেন রিফার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের কোচ হিসেবেও পেয়েছেন সাফল্য। গত বছর বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সময় তিনিই ছিলেন ভারপ্রাপ্ত কোচ। পরে পাইবাসের কাছে দায়িত্ব হারালেও এবার কোচ হিসেবে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে। নতুন প্রধান নির্বাচক হেইন্স আপাতত দায়িত্ব পেয়েছেন তিন মাসের জন্য। ক্রিকেট পরিচালক অ্যাডামস ও কোচ রিফারের সঙ্গে মিলে তিনি নির্বাচন করবেন বিশ্বকাপের দল। বিশ্বকাপ দল নির্বাচনের অংশ হবেন অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য নতুন আলোকবর্তিকা হয়ে এসেছে এসব পরিবর্তন। বোর্ডের সঙ্গে অভিমান বা বিরোধে অবসর নেওয়া কিংবা দূরে থাকা তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই এখন আবার জাতীয় দলে ফিরবেন বলে আভাস মিলছে।

আরো খবর...