“ঈদে-মিলাদুন্নবী মুক্তির ঈদ।”

॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

“আল্লাহর এ সৃষ্টি জুড়ে মানবাত্মার গভীর ক্রন্দন। যাবো না এ ধরায়। কি হবে মুক্তি উপায় ফিরে আসিবার পথ। না হলে মানব জনম হবে বরবাদ।

সেদিন শুধু আরব নয়, সারাটা বিশ্ব ডুবে গিয়েছিল জ্ঞানহীন, মনুষ্যত্বহীন এব ঘোর অন্ধকারে। মানবতাহীন রুদ্ররূপ গ্রাস করেছিল সকল মানবীয় গুণাবলীকে। তৌহিদের বাণী ধুলায় লুন্ঠিত হয়েছিল শত শত দেব দেবীর চরণ তলে। বিশ্ব মানবতা বিশ্ব বিবেক খুঁজে ফিরছিল শান্তিও মুক্তির পথ। এহেন সময়ে এলেন বিশ্বের রহমত হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।

আল¬াহ বলেন, “হে নবী। আমি, আপনাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বের জন্য রহমতকারী হিসাবে।” (সূরাঃআম্বিয়া) তাই তিনি বিশ্ব নবী, সর্ব মানুষের নবী। তাই আমাদের আজ জানতে হবে রাসূল নামে কে এল ঐ মদীনায়। যার নাম ও প্রশংসা বিশ্বের সব গ্রন্থে দেখা যায়। ডক্টর বেদ প্রকাশ উপপাধ্যায় “ বেদ ও পুরাণে হযরত মোহাম্মদ”Ñ বই এ এটা প্রকাশ করেছেন। মহর্ষি ব্যাসদেব মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তার “ভবিষ্যপুরাণ” গ্রন্থে। ঈসা নবী তার সম্প্রদায়কে “আহ্মদ” নামে এক রাসূল উনার পরে  আসার সুসংবাদ দিয়েছেন। বুদ্ধ বললেন, “আর একজন “মৈত্রেয়” বা শান্তি ও করুনার বুদ্ধের কথা।” যিনি উর্দ্ধ জগতে “আহ্মদ’, পৃথিবীতে “মোহাম্মদ:, ভূপৃষ্ঠের নীচের জগতে “মাহ্মুদ” নামে আবির্ভূত। ত্রি জগতে তিন নামে যার আবির্ভাব তাঁকে কেবল বই, কিতাব পড়ে জানা যাবে কি?

তাঁর আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও মানবীয়। তিনি বলেছেন, “অমুসলিমদের রক্ত আমাদের নিজেদের রক্তের মত নিরাপত্তার দাবিদার। আর তাদের ধন সম্পদ আমাদের নিজেদের ধন সম্পদের মত সংরক্ষণ যোগ্য।”

পবিত্র ১২-ই রবিউল আউয়াল তাঁর পবিত্র জন্মদিন। তাই পবিত্র ১২-ই রবিঃ আউঃ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। তাই ১২ই রবিঃআউঃ মুসলিম মিল¬াতের পরম ধন। বিখ্যাত সাধক হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) বলেছেন, “ফেরেশতাদের ঈদ দু’টি, লাইলাতুল বরাআত ও লাইলাতুল ক্বদর। মোমেনদের ঈদ দু’টি, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা। আল্লাহর ঈদ হলো ১২-ই রবিউল আউয়াল। ঐ দিন আল¬াহতায়ালা আসমান জমিনসহ সমগ্র জাহানে ঈদ ও খুশী উদযাপনের ব্যবস্থা করেন। তাই তাঁর এক উপাধি “রাহমাতুলি¬লÑআলামিন” বিশ্বের জন্য করুনার আধার।

আল¬াহ তার অনন্ত প্রেম নিয়ে ছিলেন অপ্রকাশ্য। নিজেকে প্রকাশের জন্য তাঁর প্রেমের নূর (আলো) হতে সৃষ্টি করলেনÑ“নুরে মোহাম্মদ (সাঃ) কে। এরপর একদিন মোহাম্মদ (সাঃ) এর নূর হতে সমগ্র জগৎ সৃষ্টি করলেন। “আল্লাহ ও তার ফেরেশতা নবীর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করেন, বিশ্বাসীদেরও পাঠ করতে বলেছেন।” আল্লাহ নিজে যে কাজ করেন তার চেয়ে উত্তম আর কিছু কি হতে পারে?

সেই নবীর চিরন্তন শাশ্বত মুক্তি আহবান এর ডাক নিয়ে সামনে আগত কালজয়ী এক স্বর্ণ উজ্বল দিন পবিত্র ১২-ই রবিঃআঊঃ। অন্ধকার হতে আলোয়, বন্ধন হতে মুক্তির  দাওয়াত নিয়ে “মুক্তির ঈদÑঈদে মিলাদুন্নবী” প্রতি বছর আমাদের মাঝে আসে, প্রেমিক হৃদয়ে সে নিজেকে উজাড় করে দান করে যায় ‘প্রেম শান্তি আর মুক্তির  অনাবিল প্রশান্তি।”

তখন সে প্রেমিক আরও নিবিড় করে ভালবাসে তাঁকে। বলে  হে নবী! হে রাসূল! হে সৃষ্টিকুল শ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী আপনায় সালাম, আপনায় সালাম। আগামী ২১শে নভেম্বরÑবুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা ফাতেহা শরীফ। তাই আসেন,বিশ্ব নবী, সৃষ্টির নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে গ্রহণ করি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে।

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রাঃ) বলেছেনঃ “এটা এমন একটা দিন যার তুলনা নাই। এটা সৃষ্টির অভিষেক এর দিন। এ ঈদ আমাদের নবীর ঈদ শ্রেষ্ঠ ঈদ মুক্তির ঈদ।” তাই কুষ্টিয়া শহরস্থ বারোশরীফ দরবারে ঈদে মিলাদুন্নবীর পবিত্র অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি ও আত্মার মুক্তির জন্য একত্রিত হয়। আল্লাহ আমাদের দয়া করুন।

আরো খবর...