ইবিতে দ্বিতীয় দিনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, ঝিনাইদহ পৌরসভা, লৌকিক কলকাতা ও বাংলাদেশ ফোকলোর রিসার্চ সেন্টার, রাজশাহী ব্শ্বিবিদ্যালয়ের উদ্যোগে শনিবার ৪র্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, সারা বিশ্বে ২০৫ মিলিয়ন বাঙালী আছে তাদের প্রাণের সংস্কৃতি বাঙালী সংস্কৃতি। বাংলাদেশে ও রয়েছে ৪০-৫০ টি জাতিসত্বা যারা সকলে মিলে রাষ্ট্র বির্নিমান করছে। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন হুমকির মুখোমুখি প্রতিদিনই কোন না কোন দেশে জঙ্গীবাদী হামলার সম্মুখিন হচ্ছে। এতে করে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। আমরা ৯/১১ দেখেছি তথাকথিত জিহাদী জঙ্গীবাদের উত্থান দেখেছি। অন্যদিকে আই.এস.এস মোকাবেলার নামে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ফোবিয়া সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই চুড়ান্তভাবে আমরা শান্তি প্রতিষ্টার জন্য কাজ করবো এজন্য পরমত ও পরধর্ম সহিষ্ণু হতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও চৌকস নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সকল প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে আনছে। অচিরেই ভিশন ২০-২১ এবং রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়িত হলে দেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌছে যাবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষা মানুষকে উদার করে এবং মানুষের জানবার দিগন্তকে প্রসারিত করে। পাশাপাশি মানুষকে আলোকিত করে। তিনি বলেন, একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করতে পারেন এর উজ্জল উদাহরন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.এইচ. এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অরিজিন কি তা বের করে নিয়ে আসে ফোকলোর। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, একজন ফোকলোরিস্ট সব থেকে বেশি মানবতাবাদী। তাই ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের বিষয়। মহাবিশ্বের এমন কিছু নাই যা ফোকলোর সাথে যায় না, সব কিছুই ফোকলোর এর সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা নতুন দেশ ও নতুন পতাকা পেয়েছিলাম। তিনি অসাম্প্রদায়িক ধারার বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন,বাংলার জনজাতি ও সংস্কৃতি প্রথম চিনেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই দেশ স্বাধীন হবার পর পরই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন দেশের জন্য জরুরীভাবে সংবিধান প্রনয়ন করতে হবে। যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি ও সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কিভাব পশ্চাদপদ জনগোষ্টিকে অগ্রসর করে দেশের উন্নয়নের মুল স্রোতে আনতে হবে তা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মোবাইল ও আকাশ সংস্কৃতির যুগে পারিবারিক ও সামাজিক মুল্যাবোধ যেন ধ্বংস না হয় সেজন্য ফোকলোর চর্চা এর মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস, মুল্যবোধকে আরো সমৃদ্ধ করবার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ পৌরসভার শেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, আমেরিকার নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ডেমন জোসেফ মন্টিক্লার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর সনৎ কুমার নস্কর ও ভারতের ডায়মন্ড হারবার উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর তপন মন্ডল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। ৪র্থ আন্তর্জাতিক ফোকলোর সম্মেলন-২০১৯ এ মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটস  বরুন কুমার চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

আরো খবর...