ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, বরং এবার সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, সম্ভবত আর মাত্র একদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সবার প্রতি রইল আগাম ঈদের শুভেচ্ছা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ হবে এবার। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক নয়, সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঈদ হবে এবার। কারণ, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। কারণ, গণতন্ত্রহীন দেশে অশান্তি, প্রতিহিংসা, হানাহানি ও বিচারহীনতার রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আপসহীন প্রত্যয়দৃঢ়, অকপট ও প্রতিবাদী দেশনেত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যই বন্দি করে রাখা হয়েছে একটা চিরস্থায়ী জমিদারি শাসন কায়েম রাখার জন্য। এ পরিস্থিতিতে একদলীয় বাকশালী সরকারের কবলে পড়ে দেশ এখন এক চরম নৈরাজ্যজনক অবস্থার মধ্যে নিপতিত। তাই বেশির ভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই। এ ছাড়া ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কোটি কোটি কৃষকের ঘরে ঘরে কোনো ঈদ আনন্দ নেই। বেশির ভাগ মানুষের পকেটে টাকা না থাকায় মার্কেটগুলো প্রায় ফাঁকা, বেচাকেনা নেই সেটি স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। সুতরাং তাঁদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষকরা এখনো বেতন-বোনাস পাননি। তাঁদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসীর টাকা আসত বাংলাদেশে, এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং অন্যান্য দেশ থেকে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। তাঁদের কোনো কাজ নেই, আয়ও নেই। তাঁদের ঘরেও ঈদের আনন্দ নেই। শেয়ারবাজার বারবার ধসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজিসহ সব নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাঁদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, তাঁরা বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া অথবা কারাগারে, তাঁদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বলছিলেন রিজভী আহমেদ। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান দুঃশাসনের কবলে পড়ে হাজার হাজার মানুষ গুম-খুনের শিকার, নারী-শিশুরা খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার, তাদের পরিবারেও ঈদের আনন্দ নেই। সুতরাং স্বস্তির ঈদ নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও নির্যাতিত মানুষদের প্রতি ইতিহাসের সেরা তামাশা। সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নিম্ন আদালত থেকে ভয়ঙ্কর জঙ্গিরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে সরকার জঙ্গিদমনের নামে যা করছে তা পরিকল্পিত নাটক কি না তা নিয়ে। রিজভী বলেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেছেন-গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের মধ্যে ৩০০ জন পলাতক রয়েছেন। ২০১৬ সালের ওই হামলার পর গ্রেফতার ৫১২ জন জঙ্গির মধ্যে ৩০০ জন জামিনে রয়েছেন। জামিনে থাকা জঙ্গিদের মধ্যে অধিকাংশ এখন পলাতক। র‌্যাবের মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনে জাতি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। তিনি বলেন, জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কিভাবে? আমরা জানি নিম্ন আদালত সম্পূর্ণরূপে সরকারের করায়ত্ত্বে! গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউই নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। তাহলে জঙ্গিরা কিভাবে জামিন পান? সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকারের লেখা বইয়ের বক্তব্য প্রত্যাহার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের ৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার এবং সাবেক মন্ত্রীকে যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিষ্কার। এর আগে কখনো আদালতকে ব্যবহার করে আবার কখনো গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে মুক্তমনের বিবেকবান কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, নাজমুল হক নান্নু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...