আলুর দাম তলানিতে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বগুড়ায় বেড়েছে আলু চাষের জমির পরিধি। পাইকারী বাজারে নেই ক্রেতাদের আনাগোনা। আলুর দামও তলানিতে এসে ঠেকেছে। দাম না মেলায় অনেক কৃষক ক্ষেত থেকেই আলু তুলছেন না। গত বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে পাকড়ি (লাল) আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫-১৬ টাকায় নেমে আসে। হাটে সেই আলু আরও কমে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে। আর সাদা হলেন্ডার স্টিক বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৪৫০ টাকা। আর গ্রানোলা জাতের আলুর দাম ছিল প্রতি মণ মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সেই হিসেবে এই আলুর দাম পড়েছে মাত্র ৭ টাকা ৫০ পয়সা কেজি। হাটের চিত্রের চেয়ে মাঠের চিত্র আরও খারাপ। মাঠের কৃষক আলুর দাম পাচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা কেজি। এবার ফলন ভাল হওয়ার সুবাদে হাটে আলুর স্তুপ। কিন্তু একে তো দাম কম, তার ওপর ক্রেতার অভাবে ওই আলু বিক্রি করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেক কৃষক ক্ষেত থেকেই আলু তুলছেন না। সপ্তাহ জুড়ে ঘুরে মিলেছে মাঠের এ চিত্র। বগুড়ায় মোট সবজি আবাদের ৫০ শতাংশ এলাকা এখন আলুর দখলে। বগুড়ার চন্ডীহারার কৃষক আব্দুল মানিক, মোকামতলা বাজার এলাকার সবুর সওদাগর, নয়মাইল বাজারের মিনহাজ উদ্দিন ও শেরপুরের আকবর মিয়া জানান, বাজার পরিস্থিতি দেখে ক্ষেত থেকে আলু তোলা বন্ধ রেখেছি। এখন আলু তুললে লসে বিক্রি করতে হবে। আবার দেরিতে তুললে পরবর্তী ফসল চাষ বিঘিœত হবে। যে কারণে আমরা পড়েছি উভয় সঙ্কটে। এদিকে এখনও বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। কমছে না ঘন কুশায়াও। আবহাওয়া ক্রমেই চলে যাচ্ছে আলু চাষীদের প্রতিকূলে। জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে রোগবালাই। অথচ এখন মাঠে পড়ে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ আলু। কৃষি বিশেষজ্ঞ বজলুর রশিদ বলেন, গাছ শুকিয়ে যাওয়ার পর আলু না তুললেও অন্তত ১৫ দিন মাটিতে আলু ভাল থাকবে। ওই কয়েক দিনে বাজার কিছুটা চাঙা হতে পারে। বগুড়ার পাইকারি আলুর বাজার কতদিন এমন মন্দা থাকবে তা নিয়ে কৃষি ও কৃষি বিপণন দফতরের কর্মকর্তারা স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। কৃষকরা জানান, এ সময়ে মূলত পাকড়ি (লাল) প্রজাতির আলুর ফলন হয়। বৃহস্পতিবার মহাস্থান হাটে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে ওই আলু বিক্রি হয়েছে। সাদা হলেন্ডার স্টিক বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৪৫০ টাকা। আর গ্রানোলা জাতের আলুর দাম ছিল প্রতিমণ মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সেই হিসেবে এই আলুর কেজি হাটে পড়ে মাত্র ৭ টাকা ৫০ পয়সা কেজি।

আরো খবর...