আর্থিক সন্তুুষ্ট না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সভাপতির ’ অন্ধকুপহত্যা’ কল্পকাহিনী রচিত

কুষ্টিয়া স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ  

নিজ সংবাদ ॥ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে আর্থিকভাবে সন্তুুষ্ট না হওয়া বা নিজের মনোপুত ব্যক্তি উক্ত পদে নিয়োগ না পাওয়ায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে কল্পকাহিনী রচনা করে সর্বত্র ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদ্যালয়ের অর্থ তসরুপ, জনসম্মুখে একজন শিক্ষককে অপদস্ত করা, হাত থেকে বিদ্যালয়ের চাবি ছিনিয়ে নেয়া, সাধারণ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অহেতুক নির্যাতনের ফিরিস্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিস্ট দপ্তর সুমহে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে। জানা যায়, গত ১৩ মে বিদ্যালয়ে শুন্যপদে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে একটি বিধি মোতাবেক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সর্বচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ও প্রথম হওয়া ব্যক্তি আলমগীর হোসেনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষককে ক্ষমতা অর্পণ পুর্বক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্যের উপস্থিতিতে একটি রেজুলেশন প্রস্তুত পুর্বক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সুত্রটি জানায়, বর্তমানে সভাপতি খোরশেদ আলম উক্ত রেজুলেশনে তার স্বাক্ষরটি জাল-জালিয়াতি বলছে এবং প্রধান শিক্ষক উৎকোচের বিনিময়ে উক্ত আলমগীর হোসেনকে উক্ত পদে নিয়োগ দিতে প্রথম করিয়ে দিয়েছেন। অথচ ৫-১২-২০১৭ তারিখে এবং ৩০-৮ খ্রীঃ তারিখের সভাপতি খোরশেদ আলমের স্বাক্ষরের সাথে ১৩ মে ২০১৯ খ্রীঃ তারিখের তেমন কোন পার্থক্য নেই। সুত্রটি বলছে, লিখিত পরীক্ষা চলাকালীন জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। তা হলে তার স্বাক্ষরটি কিভাবে জাল হলো। এ ছাড়া গত ২৭ এপ্রিল ম্যানেজিং কমিটির সভা ব্যতিরেকে সালিশ মধ্যস্বস্তার নামে এক পাক্ষিক গণ জমায়েতের মধ্যদিয়ে প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনকে নিদারুন অপদস্থ করা হয়। চলতি বছর প্রধান শিক্ষক হটাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে সভাপতির বরাবর ছুটির জন্য গত ২৯ এপ্রিল আবেদন দুর্নীতিবাজ সভাপতি খোরশেদ আলম প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনের নিকট চাঁদা দাবী করে। উপায়ন্ত না দেখে প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত হিসাব রূপালী ব্যাংক স্বস্তিপুর শাখা হিসাব নং- ৯৩৪৬ অফিস সহায়ক আতিয়ার রহমানকে দিয়ে উক্ত টাকা উত্তোলন করিয়ে সভাপতিকে প্রদান করেন। এ ছাড়াও সভাপতি তথা কথিত তদন্তের নামে গত ১৫ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের উপর নির্যাতন চালানোসহ তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা তসরূপ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অথচ তিনি প্রধান শিক্ষক রহুল আমীনের বিরুদ্ধে সেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ডাঃ হলওয়লের রচিত ‘ অন্ধকুপ হত্যা’র মত একটি কাল্পনিক রচনা করে চলেছেন। সত্য না হয়েও ডাঃ হলওয়েল যেমন রচনা করেছিলেন, ১২ বাই ৮ ফিট একটি কক্ষের মধ্যে নবাব ১২৫ জন ইংরেজ সেনাকে আটকে রেখে নির্মমভাবে হত্যা করে। অথচ নবাবের মৃত্ব্যর পর ওই মাপের ঘরে ১২৫ জনতো দুরে থাক ৩০ জন লোকও আটে না। আসলে নবাবকে অভিযুক্ত করার জন্য ডাঃ হলওয়েল এরুপ কল্পকাহিনী রচনা করেছিলেন তার জীবনীতে তিনি উল্লেখ্য করেছিলেন। একই ভাবে সভাপতি খোরশেদ আলম স্বাক্ষর করেও বিদ্যালয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন যার সাথে বাস্তবাতার কোন মিল নেই। এ ব্যপারে মুঠোফোনে সভাপতি খোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ সবই মিথ্যা। ১৩ তারিখের রেজুলেশনে তিনি ব্ল্যাঙ্ক স্বাক্ষর করেছিলেন। আর চাদাবাজী ও শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনাটি সঠিক নহে বলে জানান।

আরো খবর...