আমাদের মানসলোক

॥ মাকিদ হায়দার ॥

বাংলাদেশে কবে কখন কোথায় মানুষের শুরু হয়েছিল সে কথা জানার কোনো উপায় নাই, তবে হাজার বছরের ব্যবধানে দুটি যুগের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাঙালি জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে ইতিহাসবিদ প্রফেসর রমেশচন্দ্র মজুমদারের তথ্যমতে, দুটি যুগকে তিনি বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন (১) প্রতœ প্রস্তর যুগ (২) নব্য প্রস্তর যুগ। নব্য প্রস্তর যুগে মানুষের সভ্যতা বৃদ্ধির বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন তারা আগুন উৎপাদন করতে পারত, জানত মাটি পুড়িয়ে মাটির তৈজসপত্র বানাতে এবং রন্ধন প্রণালিতে তাদের স্ত্রীরা ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী। অপরদিকে পুরুষরা আবিষ্কার করেছিলেন ধাতুর। পাথর কেটে বানাতে শিখেছিলেন আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র।

সেই আদিতে বাঙালি জাতির উন্মেষকালে জাতিগত বিভাজন ছিল কিনা সে কথা জানা না গেলেও, জানা গেছে বাংলার আদিম অধিবাসীরা আর্য জাতির বংশোদ্ভূত নয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে কিছু কিছু অন্ত্যজ জাতির বসবাস বাংলায় দেখা যায়। যাদের আমরা কোল, শবর, পুলিন্দ, হাড়ি, ডোম, চন্ডাল হিসেবেই জানি এবং ওই সব প্রান্তজনরা বাংলার আদি অধিবাসীদের বংশধর। বলা যেতে পারে সেই সব বংশধরদের নিশ্চয়ই কেউ না কেউ তাদের সমাজের দায়ভার গ্রহণের মধ্যদিয়ে হয়েছিলেন সমাজপতি। সমাজের বা নিজ সম্প্রদায়ের জনগণের জন্য সেকালে এবং একালেও সেই দায়বদ্ধতার ভেতর এগুতে হয়েছে সমাজপতিকে দেশ এবং দশের কল্যাণের দিকে। তবে সেই আদিকালে ‘ভোট’ ছিল কিনা কিংবা যুক্তফ্রন্ট অথবা ঐক্যফ্রন্ট আদৌ ছিল কিনা বাংলাদেশের ইতিহাসের লেখক প্রফেসর মজুমদারের গ্রন্থে সেসবের উল্লেখ নেই। স্বভাবতই পাঠক হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে ‘ভোট’ নামক ভীতিকর শব্দের উদ্ভব সেই নব্য প্রস্তর যুগে অথবা বাংলাদেশে তখনো হয়নি। এমনকি ব্যালট পেপার, নমিনেশন পেপার, দেয়াল লিখন, পাড়ায় পাড়ায় রংবেরংয়ের পোস্টার এমনকি সরকারি, বেসরকারি, বিরোধী শব্দগুলোর উদ্ভব হয়নি বলেই আমার নিজের বিশ্বাস, কেননা নব্য প্রস্তর যুগে যারা এসেছিলেন তাদের জীবনযুদ্ধ করতে হয়েছিল, আগামীর শুভ দিনের জন্য। কারো ব্যক্তিগত পকেট ভারী করার জন্য অবশ্যই নয়।

আমার বয়স যখন মাত্র ৭ বছর সেই সময় সমগ্র পূর্ববাংলায় যুক্তফ্রন্ট নামের একটি রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছিল। আমাদের ভূমিতে। তার আগে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই মাটিতেই অনেক তরুণ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে। তখনকার দিনে পূর্ববাংলার প্রধান সমাজপতি ছিলেন জনাব নুরুল আমিন। জনাব আমিনের নির্দেশেই রক্তধারা বয়ে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে। ঠিক তার বছর দুয়েকের পরেই মুসলিম লীগের বিরোধীরা একত্রিত হয়ে বানিয়েছিলেন একটি জোট, নাম দিয়েছিলেন যুক্তফ্রন্ট। ওই ফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরো অনেকেই। সেটি ছিল ১৯৫৪ সাল। সেই যুক্তফ্রন্টের নেতাদের কাছে হেরে গিয়েছিলেন সমাজপতি নুরুল আমিনের দল, ঘৃণ্য মুসলিম লীগ।

আমাদের পাবনা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমকোণের মহল্লাটির নাম আটুয়া, ইছামতী নদীর পশ্চিমপ্রান্তে। সেই আটুয়া মহল্লাটিতেই বসবাস করতেন মুসলিম লীগের এক বড় নেতা। তিনি পেশায় ছিলেন ডাক্তার (খুব সম্ভবত এলএমএফ) জনাব মোফাজ্জল হোসেন মুন্সী। ১৯৫৪ সালের ভোটাভুটিতে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে শক্তিশালী ক্যান্ডিডেট হিসেবে নুরুল আমিন তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এমএনএ হওয়ার জন্য। যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে জনাব হোসেন দাঁড়িয়েছিলেন, যুক্তফ্রন্টের অখ্যাত এক ক্যান্ডিডেটের বিরুদ্ধে। তবে তার আগেই নিরিবিলি এই শহরের আনাচে-কানাচে হাতে লেখা পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল, ছেয়ে গিয়েছিল বেশ কিছু মজার মজার স্লোগান লিখে, প্রতিদিনই ফ্রন্টের সমর্থকরা ভোটের অনেক আগে থেকে মাইকিং করে মুসলিম লীগের প্রতীকের বিপক্ষে। বিরুদ্ধে মুখরোচক একটি স্লোগান শহরময় ছড়িয়ে দিয়েছিল- শহরের উত্তর দিকের ‘শিঙ্গার শ্মশান’  থেকে শুরু করে দক্ষিণের সাধুপাড়া পর্যন্ত- ‘সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে’ বার্তাটি ছিল-

মুসলিম লীগের ভাঙ্গা লণ্ঠন

দে নিভাইয়া দে রে…

লণ্ঠন বা হ্যারিকেন যাই হোক না কেন, যেহেতু সেটি ছিল মুসলিম লীগের প্রতীক তাই জনগণ সহজেই সমস্বরে চিৎকার করে গেয়ে বেড়াতেন শহরের হামিদ রোড থেকে জ্যাকসন রোড হয়ে চাঁপা মসজিদ হয়ে নতুন ব্রিজ পাড়ি দিয়ে ফ্রন্টের লোকেরা জড় হতেন জিন্নাপার্কে। সেই পার্কেই সমর্থকরা জানাতেন তাদের ঘৃণার বর্হিপ্রকাশ। ওই বয়সের হয়তো আরো ব্যঙ্গাত্মক শ্লোগানের মাধ্যমে। সে বছর ভোটে দাঁড়িয়ে মুসলিম লীগের প্রার্থী ডাক্তার হোসেন বিশ্রীভাবে হেরে গিয়েছিলেন, যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী পাবনা জজ কোর্টের এক অখ্যাত উকিলের কাছে। শ্রী মধুসূদন সরকার যিনি স্বপ্নেও কোনোদিন ভাবতে পারেননি, অথচ তার সৌভাগ্য তাকে যুক্তফ্রন্ট থেকে মন্ত্রীর পদ দেয়া হয়েছিল। শ্রী মধুসূদনকে তার মক্কেলরা বলতেন উকিল বাবু গরিবের বন্ধু। মামলা মোকদ্দমায় টাকা পয়সা খুব বেশি দাবি করেন না। তিনি আমাদের অগত্যা মধুসূদন। উকিল সাহেবের বাড়ি শহরের গোপালপুর মহল্লায় হলেও শহরের আশপাশের মহল্লা থেকে একত্রিত হয়েছিল যুক্তফ্রন্টের হাজার হাজার সমর্থকরা এমনকি মধুসূদন বাবু এমএনএ-মন্ত্রী হওয়ার পরে শহরের উত্তর দিকের মহল্লা শালগাড়িয়ায় বিখ্যাত আতশবাজি প্রস্তুতকারক হাজরা মালাকার বেশ অনেকগুলো আতশবাজি এবং ফানুস বানিয়ে শ্রী মধুসূদন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে। হাজরা মালাকারকে পরবর্তীতে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে গিয়েছিলন- সেই ১৯৫৯ অথবা ১৯৬০-এর দিকে যখন চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন-লাই- পাকিস্তান সফরে এসেছিলন তখন পাবনা থেকে মি. হাজরাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তিনি আতশবাজি এবং ফানুস বানিয়ে চীনা প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়েছিলেন ফানুসের মধ্যে আইয়ুব খানের এবং চৌ-এন-লাইয়ের যৌথ ছবি। এসবই আমার শোনা কথা, যদিও আমাদের শহরের বাড়ি ছিল জিলাপাড়া মহল্লায়। জিলাপাড়া থেকে গোপালপুর মহল্লা প্রায় মাইলখানেক উত্তরে।

শ্রী মধুসূদন সরকার এম.এন.এ হাওয়ার পরে তরুণরা মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে একদিন স্লোগান দিতে দিতে আটুয়ায় গিয়ে ডাক্তার হোসেনের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত ভাষায় শ্লীল এবং অশ্লীল শব্দে গালাগাল দেয়ার অপরাধে ডা. হোসেন যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হওয়ার ক্ষোভে এবং মনোবেদনায় যখন নিমজ্জিত ঠিক তখনই বাড়ির সামনে যুক্তফ্রন্টের সমর্থকরা যেভাবে লাফালাফি, গালাগালসহ ডাক্তারের বাড়ির দিকে ইট, ছেঁড়া স্যান্ডেল, মরা মুরগি ছুড়তে শুরু করেছিল তাতে অধিক ক্ষিপ্ত হয়ে ডাক্তার হোসেন এবং তার বড় মেয়ে পাবনা গার্লস স্কুলের উচ্চশ্রেণির ছাত্রী ডলি হোসেন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য পিতা এবং কন্যা তাদের লাইসেন্সকৃত দোনলা বন্দুক দিয়ে নিজ বাড়ির নিচ তলার জানলার ফাঁক দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ গোলাগুলির পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল, জেলা প্রশাসক, পুলিশের বিশেষ অভিযানে। আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে। পরিস্থিতি শান্ত হলেও আটুয়া-কেষ্টপুর-লাইব্রেরি পাড়ার দিকে শহরের পূর্বপ্রান্তের যুক্তফ্রন্টের নেতাকর্মীরা যেতে ভয় পেতেন। আবার হাঙ্গামার ভেতর পড়তে না হয়। সেই গোলাগুলির গুলিতে কেউ মারা না গেলেও আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েক। ফলশ্র“তিতে পিতা এবং কন্যাকে যেতে হয়েছিল নিম্ন আদালতের লাল কাপড়ে ঘেরা বিশেষ একটি স্থানে। জনৈক ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল সেইদিন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের নিম্ন আদালতে পরবর্তীতে হাজিরা দিতে এলেই পিতা এবং কন্যা অশ্রাব্য বাক্যবাণে শায়িত হলেও ডলি হোসেন, নেতা ডা. মোফাজ্জল হোসেন মুন্সীকে থাকতে হতো নিরুত্তর।

ডা. হোসেনের পিতা, মগরেব মুন্সীর যথেষ্ট প্রতিপত্তি ছিল তার মহল্লায়, এমনকি তিনি কলকাতায় পড়ালেখা করতেন সেই সময় থেকেই তিনি পাকিস্তানের সপক্ষে স্লোগান, মিটিং-মিছিলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার সুবাদে লীগের বড় বড় নেতাদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এক নম্বরে। একাধারে কলেজের ছাত্রদের ভেতরে সবচেয়ে ভালো ইংরেজি বলতে এবং লিখতে পারতেন মগরেব মুন্সী। ১৯৪৭ দেশ ভাগ হওয়ার অনেক আগেই সংসার ধর্ম শুরু করেছিলেন- বিধায় পুত্র কন্যা মিলিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ জনের ভেতরে ছিলেন ডা. মোফাজ্জল হোসেন মুন্সী। ডা. হোসেনও পড়ালেখায় এমনকি ইংরেজি পিতার মতোই জানতেন খুবই ভালো। সেই ইংরেজি জানা এবং লেখার খবর কোনো না কোনো পথে পেয়েছিলেন মুসলিম লীগের নেতা জনাব নুরুল আমিন। জনাব আমিনের আহ্বানে এমনও আশ্বাস দেয়া হয়েছিল মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে- যদি যুক্তফ্রন্ট হেরে যায় এবং মুসলিম লীগ জিতে গেলে ডা. মোফাজ্জল হোসেন মুন্সীকে মন্ত্রী বানানো হবে, কিন্তু বিধিবাম। সবই আমার শোনা কথা। যেহেতু তখন আমার বয়স মাত্র ৭ বছর। পরে শুনেছিলাম আমার পিতা শেখ মোহাম্মদ হাকিম উদ্দিনের কাছ থেকে। পিতা ছিলেন পাবনা শহরে মুসলিম লীগের সম্ভবত অর্থ সম্পাদক। পিতার যেহেতু ব্যবসা বাণিজ্য ভালোই ছিল- পিতা একদিন কথা প্রসঙ্গে আমার মাতামহকে বলেছিলেন, ডা. হোসেন আমার নিকটজন হলেও ভোটাভুটিতে হারজিত তো হবেই- তাই কোনো গোলাগুলি করা সমীচীন হয়নি। আমাদের পিতার শ্বশুরালয় ওই কেষ্টপুরেই।

১৯৫৪ সালের পরে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বছরের ব্যবধান মাত্র ৬৪ বছর এবং আমার বয়স এখন ৭২ বছর। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দল-উপদল, উপদলের শাখা-প্রশাখা বিভিন্ন জেলায় জেলায় জন্মালেও তারা সব সময়ই ছিলেন কোথায় গেলে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। পারমিট বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংকের অর্থ নিয়ে ফেরত না দিয়ে ব্যবসাবাণিজ্য বাড়ি-গাড়ী করা যায় এই ছিল অনেকের লক্ষ্য। সেই দিনগুলো অনেক দিন আগে নিঃশেষ হয়েছে বলেই আমার একনিষ্ঠ ধারণা। তবে পরবর্তী সময়ে ১৪ দল এবং আরো অনেক পরে ২০ দল প্রতিষ্ঠিত হলেও হয়নি যুক্তফ্রন্ট।

এবার এই বছরে হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের হাজার অভিযোগ, মৃত গণতন্ত্রকে প্রাণ দিতে হবে। অথচ বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র পালিয়ে গিয়েছিল ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে- ১৯৯০-এর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। তখন কারো মুখে শুনিনি, গণতন্ত্র মৃত আবার আজকের ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নিজেদের ধরা দিয়ে পেয়েছিলেন সচিবালয়ের মন্ত্রীর মনোমুগ্ধকর চেয়ারখানা। তখন তারা ভুল করেও বলেননি, গণতন্ত্র রাজপথে ট্রাকে চাপা পড়ে মারা গিয়েছে। এখন বলছেন, বলার সুযোগ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। যদি এই সরকার ১৯৯০-পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকার হতো তাহলে শোভা পেত গণতন্ত্রকে মৃত বলার, বলা যেতে পারে বাঙালি যেহেতু বিচ্যুতিপ্রবণ একটি জাতি তাই অনেকেই স্মৃতি থেকে হারিয়ে ফেলেছেন ২০১৪ সালের তান্ডবের কথা, ভুলে গিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদের চাঁদে ছবি দেখার কথা। তারাই আজ ঐক্যজোটের শরিক- তারাই আজ উদ্ধার করবেন মৃত গণতন্ত্রকে। সংবাদটি শুভ বলেই শুভ। এই অগ্রহায়ণ এবং আশ্বিন-পৌষ ১৪২৫ সন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গ্রামে-গঞ্জে, শীতের দিনের উষ্ণ বাতাস বইতে শুরু করেছে, ভোটানন্দে। যেটি খুবই সুখকর সংবাদ। তবে একটি শঙ্কা আমার ভেতরে মাঝে মাঝে খোঁচা দেয়, যদি ঐক্যফ্রন্টের কোনো নেতা ১৪ দলের ভাঙাচোরা অথচ সৎ রাম-রহিমের কাছে যদি পরাজিত হন, সেই ডা. হোসেনের মতো তবে পরাজিত জন যেন, মোফাজ্জল হোসেন এবং তদীয় কন্যা জানালার ফাঁক দিয়ে গুলি চালিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা না করেন। তার দিকে ১৪ দলের প্রার্থীর প্রতি ওই একই আবেদন আমার। বরং জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে যদি পরাজিত প্রার্থী, দুজনে দুজনার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন আর যদি আমি মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাই তখন ভাবব গণতন্ত্র মৃত নয়, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ছেঁড়াফাড়া দলের উদ্ভব হয়েছে যাদের নাম আমার এই ৭২ বছরে শুনিনি, এমনকি ১৯৭২ সালের পরও নয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের প্রার্থীরাও জানিয়েছেন- তাদের দলের নিবন্ধন বাতিল হলেও তারা জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যফ্রন্টের আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নামবেন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের নির্বাচনে।

বাঙালি চরিত্র সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ আমাদের জানিয়েছেন, ‘আমরা দলাদলি ঈর্ষা ক্ষুদ্রতায় জীর্ণ। আমরা একত্র হইতে পারি না, পরস্পরকে বিশ্বাস করিতে চাহি না।’ [রাজা প্রজা। ইংরেজি ও ভারতবাসী]

আমার মনে হয় গণতন্ত্রের ছায়াতলে আমরা দাঁড়িয়ে সমস্বরে বলব, গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, দীর্ঘজীবী হোক জাতির জনক শেখ মুজিবের বানানো এই দেশ। ড. আর জি মজুমদার বেঁচে থাকলে তিনি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের পঞ্চম খন্ড লিখতেন।

লেখক ঃ কবি ও প্রাবন্ধিক।

 

আরো খবর...