আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দ্দার আলমডাঙ্গার ইমরান ও লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আন্তঃজেলা ডাকাত সিন্ডিকেটের শীর্ষ  নেতা আলমডাঙ্গার ইমরান ও তার সঙ্গী বাদেমাজু গ্রামের লিটুর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উথলি থেকে ইমরানের লাশ ও একই উপজেলার হাসাদাহ থেকে লিটুর লাশ উদ্ধার হয়। জানা  গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জীবননগর উপজেলার উথলির মাঠে এক যুবকের ও হাসাদহের মাঠে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পায় স্থানীয়রা। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দামুড়হুদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে  পৌছে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকান্ড কারা ঘটিয়েছে এবং কেন ঘটিয়েছে তা বলতে পারেনি। তবে নিহত দু যুবকের পরিচয় জানা গেছে। উথলির মাঠ থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম ইমরান আহমেদ। সে আলমডাঙ্গা মসজিদপাড়ার প্রয়াত পুলিশ কনসটেবল আব্দুর রহমানের  ছেলে। সে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের শীর্ষ নেতা। অন্যদিকে, হাসাদহের মাঠে গুলিবিদ্ধ লাশটি ইমরানের বডিগার্ড সহযোগী বাদেমাজু গ্রামের আনিচুরের ছেলে লিটুর। গুঞ্জন উঠেছে পুলিশের একটি টিম গত বুধবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গার পুরাতন বাজার থেকে ইমরান ও লিটুকে আটক করে। তবে পুলিশ তাদের আটকের কথা স্বীকার করেনি। ইমরান আহমেদ আলমডাঙ্গা বৈদ্যনাথপুরের সাবেক পুলিশ কনসটেবল মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা শহরের মসজিদপাড়ায় বসবাস করত। ইমরান  জেলার অপরাধ জগতের নটরাজ হিসেবে পরিচিত। উঠতি বয়সি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসি ও আন্তজেলা ডাকাতদলের অন্যতম  নেতৃত্বদানকারি হিসেবে পরিচিত। হাইস্কুলে ভর্তির পর পরই  সে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়। বাপের অনুপস্থিতি ও মায়ের অনৈতিক জীবন যাপনের কারণেই সে অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় বলে অনেকের অভিযোগ। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ তার নামে থানায় ১ ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। ইমরান আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। সে কারণে সে খুব সাবধানে চলাচল করতএবং অপরাধ করত খুব সাবধানে। গত ২০১১ সালের ১৯  ফেব্র“য়ারি র‌্যাব তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার পর ইমরান আলমডাঙ্গা শহর ত্যাগ করে পুরোপুরিভাবে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। পরে আর কখনই নিয়মিতভাবে আলমডাঙ্গা শহরে বসবাস করে নাই। গত বছর ১ মার্চ দিনগত রাত ১টার দিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে শহরের পশুহাট এলাকা থেকে আটক করে। আটকের পর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকারক্তি মোতাবেক পুলিশ রাতেই আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের গোডাউনের পেছনের জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছেন, মোটর সাইকেল ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক মামলাসহ আলমডাঙ্গা, দামুঢ়হুদা, মিরপুর, গাংনী থানা ও কুষ্টিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, তাদের অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্র বৃহত্তর কুষ্টিয়াজুড়ে। শুধুমাত্র আলমডাঙ্গা থানায় তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। বিষ্ফোরক আইনে ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ২টি, ডাকাতি মামলা ২টি, মারামারি মামলা ১টি ও অস্ত্র আইনে ২টি মামলা। সে ইত:পূর্বে ইভটিজিং মামলায় ৯ মাসের জেল  খেটেছে। তার নামে ২০১৪ সালে দুটি চুরি মামলা, ২০১৫ সালে একটি চুরি ও মারামারি মামলা এবং ২০১৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রুজু হয়। গত দেড় বছর পূর্বেও নীল রঙের পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে কখনও ফাঁড়ি পুলিশ, কখনও থানা পুলিশ আবার কখনও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গাসহ এর আশপাশ এলাকায় একের পর এক মোবাইলফোন ও মোটরসাইকেল ছিনতাই করে আসছিলো বলেও ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। এছাড়া গত বছর ১ ফেব্র“য়ারি দামুড়হুদার দেউলি গ্রামের সামসুল আলম বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, দামুঢ়হুদা পাইলট হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র  দেউলি গ্রামের সামসুল আলমের ছেলে সাইমুনসহ তার দু’বন্ধু জাবেদ ইকবাল ও শিহাব গত ১৮ জানুয়ারি স্কুল শেষে বিকেল ৪ টার দিকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে দেউলি প্রাইমারি স্কুলের সামনে নীল-কালো রঙের একটি পালসার  মোটরসাইকেলযোগে ইমরান ও তমাল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে তোরা মোবাইলফোনে মেয়েদের উত্যক্ত করিস। তোদের এখন ডিবি অফিসে যেতে হবে। সে সময় ডিবির এসআই পরিচয়দানকারী ইমরান তাদের ইভটিজিং মামলায় ফাঁসানোর ভয়-ভীতি দেখায় এবং ওই ছাত্রের কাছে থাকা মোবাইলফোন ৩টি হাতিয়ে নিয়ে ডিবি অফিসে দেখা করার কথা বলে দ্রুত সটকে পড়ে। পরে থানা ও ডিবি অফিসে খোজ নিয়ে জানা যায়, তারা ভূয়া পুলিশ। এ বিষয়ে ছাত্র সাইমুন ওইদিনই দামুড়হুদা থানায় একটি জিডি করেন। দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই ফিরোজ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন এবং মোবাইলফোন ট্র্যাকিং এবং কললিস্ট  চেক করে তাদেরকে শনাক্ত করেন। এরপর দামুড়হুদা মডেল থানার তৎকালীন ওসি আবু জিহাদের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে গাংনী থেকে তমালসহ এই ইমরানকে  গ্রেফতার করেছিলেন। ইমরানের  সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত তমাল। গোপালগঞ্জ  জেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের এসআই বদরুজ্জামান ওরফে বি জামানের ছেলে তমাল। ১০/১১ বছর পূর্বে আলমডাঙ্গা থানায় চাকরি করতেন বি জামান। থাকতেন সপরিবারে আলমডাঙ্গাতেই। সেই থেকে ইমরানের সাথে তমালের বন্ধুত্বের সূচনা। এছাড়া জয়রামপুর স্টেশনের অদূরে পুলিশ পরিচয়ে  মোটরসাইকেলের কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে দুই কিশোরের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

আরো খবর...