আজ থেকে উদিবাড়ী দায়রাপাকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপি ওরশ মোবারক

রাজন আহমেদ ॥ হযরত খাজা শাহ্ সুফী মনছুর আলী আল্ চিশতী নিজামী এর মাজার পাঙ্গনে আজ শুরু হচ্ছে বাৎসরিক ওরশ মোবারক। কয়েকদিন আগে থেকেই দুর দুরন্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ভক্ত-আশেকান। মাজার শরীফের চারপাশ জুড়ে বসেছে সাধু-ভক্তদের হাট। ডুগি তবলা আর  ঢোলের তালে জমে উঠেছে বাউল গানের আসর। আবার অন্যদিকে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে মনছুর সাইজীর বাড়ির খানকা ময়দানে। রাতভর সেখানে তরিকত হকিকত শরিয়ত মারেফত ও এলমে তাসায়াফের উপর ওয়াজ নছিয়াত ও জিকিরে মোসগুল থাকবে তরিকতের ভক্তগন। খাজা মনসুর সাইজীর এ ওরশ উপলক্ষে মাজারের সামনে রাস্তার পাসে বসেছে মেলা। মেলায় বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান আর  খোদা তত্ব অনুসন্ধানী প্রেমিকদের পদচারনায় মুখোর উদিবাড়ী দয়রাপাক এলাকা। আগামী রবিবার ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাত ও তবারক গ্রহনের মধ্যদিয়ে ভাঙ্গবে ভক্তদের হাট। আধ্যাত্মিক সাধক মনছুর আলী শাহ্ একাধারে ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক, লেখক, গায়ক ও সুরকার। তার গান তৎকালীন সময় বাংলাদেশবেতারের খুলনা সেন্টার থেকে সম্প্রচার করা হয়। তিনি শরিয়ত ও মারেফতের উপর ২৪টি বই রচনা করেন। তার লেখা গ্রন্থের মধ্যে ছেররোলে কোরআন, আশেকে রাসুল (সাঃ), মুক্তির আলো, মারেফতের চাবুক মনছুরের বাণী উল্ল্যেখযোগ্য। হযরত মনসুর আালী শাহের পিতা ছিলেন হযরত খাজা হাদীদ উদ্দিন এবং মনসুর আলী সাইজীর পীর ছিলেন খাজা  দেওয়ান আব্দুর রশিদ চিশতি সাহেব (মানিকগঞ্জ), তার নিকট থেকে আল-চিশতিয়া, কাদরিয়া তরিকা গ্রহনের মাধ্যমে তিনি পীরত্ব অর্জন করেন। মরোমী এ সাধকের মাজরে প্রতিবৎসর হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী মানুষ ছুটে আসে আত্বশুদ্ধি লাভের আশায়। মাজারের প্রধান খাদেম আব্দুল হাকিম জানান, বৎসরে ৩ বার দায়রাপাকে অনুষ্ঠান হয়। এসময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরিকতের আশেকান মুরিদ ভক্ত ছুটে আসে আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এর কলমা তালিমের মাধ্যমে তাদের অন্তরে মুরশিদ প্রেম জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে। খাজা মনসুর আলী শাহ্ ১১৭ বৎসর জীবিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালের ৩ রা জানুয়ারী তিনি মৃত্যুবরন করেন।

আরো খবর...