অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চশ্লিশোর্ধ্ব এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় এখন দেশজুড়েই আলোচনা চলছে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। জানা যায়, সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ওই নারীর বসতঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ করে ও পিটিয়ে আহত করে। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরাধ ছিল ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়া। এ ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এ পর্যন্ত (সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত) মূল হোতা রুহুলসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রুহুল সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ন্যূনতম ছাড় দেয়া হবে না। তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমরা সেই বিচার দেখার অপেক্ষায় রইলাম। নষ্ট রাজনীতির এই জঘন্য প্রকাশের সূচনা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিজয়ের পরপরই। সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় নির্যাতন। সে দিন মহিমা-পূর্ণিমার মতো বহু যুবতি মেয়েকে মা-বাবার সামনেই ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। প্রায় বছরব্যাপী চলেছিল সেই নির্যাতনের নিষ্ঠুরতম ঘটনাগুলো। মূলত গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় দলের মধ্যে যে বৈরীমূলক সম্পর্ক চলছে, তারই কুফল ভোগ করছে জনগণ। দুই দলের মধ্যকার বৈরিতার প্রভাব পড়ায় উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বেড়ে চলেছে সংঘাত-সহিংসতা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হলো দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। দুই বড় দল যদি প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করতে পারে, তাহলে দেশে কোনো সংকট দানা বাঁধবে না। সাধারণত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে গড়িমসি লক্ষ করা যায়; সুবর্ণচরের ঘটনায় মূল হোতাসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তাদের বিচার করার জন্য যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষত রাজনৈতিক সহিংসতা এড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা কোনোভাবেই আর যাতে ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক এমন প্রত্যাশা করছি।

আরো খবর...