অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

কুষ্টিয়া জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, শুধু আইন-কানুন থাকলে হবে না। প্রত্যেকের নৈতিক শিক্ষাও থাকতে হবে। জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে সবার আগে আপনাকেই সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।  জনজীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে না। দূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে।  রেজিষ্ট্রি অফিস, বালুমহল, ভূমিঅফিস সহ বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে চাঁদাবাজীর পাঁয়তারা করলে প্রমান মিললেই কর্মকর্তা সহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী রোধে প্রয়োজনে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  দুর্নীতি, চাঁদবাজ ও মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোনভাবেই জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও ছোট বড় কোন অঘটন ছাড়াই সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্নভাবে সম্পন্ন হওয়া তিনি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ প্রশাসনসহ সকল বাহিনীর সদস্য ও জেলাবাসীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই জনপদের সাধারণ মানুষকে শান্তিতে ও নিরাপদে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। আগামীর নেতৃত্বদানকারী আজকের প্রজন্মকে মাদকের ছোয়া থেকে বাইরে রাখতে বেশি বেশি করে সচেতন হতে হবে। জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই মাদকের মুল উৎপাটন করতে হবে। কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সহ আইনশংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে যে মোবাইল কোর্টসহ অভিযান চলছে, তা আগের মতই চলবে। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেন যথার্থই হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কোটি পরিচালনা করতে হবে। এতে কিছু মানুষ ক্ষুদ্ধ হলেও অভিযুক্তকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় দেশের অধিকাংশ মানুষই এই মোবাইল কোর্টকে গ্রহন করেছেন। তিনি ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনে রাখতে হবে অভিযান চলাকালিন সময়ে নানান পরিচয় দিয়ে তোমাকে যেন তার পক্ষে ব্যবহার করতে না পারে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ এ.কে.এম জহিরুল ইসলাম বলেন, জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকদ্রব্য নির্মূলে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য বিক্রি বন্ধসহ যে কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য প্রশাসনের কাছে সরবরাহের অনুরোধ জানান তিনি। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান,  মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মজনু, কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু হাসানুজ্জামান, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, নারী নেত্রী আলম আরা জুঁই, জেল সুপার জাকের হোসেন, এনএসআই’র সহকারী-পরিচালক নজরুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লীবিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

আরো খবর...