অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার কমাতে মিরপুরে রোপা আউশ ধানের বিপ্লব

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে এবার রোপা আউশ ধানের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। যা কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। কৃষক ফলনও পাচ্ছে আশানুরূপ। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমিয়ে, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার কমাতে রোপা কৃষি বিভাগ রোপা আউশ ধানের চাষে জোর দেয়। এতে চলতি আউশ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের আউশ মৌসুমে মিরপুর উপজেলায় ৭ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৬ হাজার ৩৫১ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪৪৫ হেক্টর বেশি। বৃষ্টি নির্ভর রোপা আউশ মৌসুমে মিরপুর উপজেলায় হেক্টর প্রতি গড়ে ফলন হয়েছে ৪ দশমিক ৫০ টন। বর্তমান বাজার মুল্যে যার দাম ৫৭ কোটি ৮২ হাজার ৫শ টাকা প্রায়। এবছর মিরপুর উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ব্রি-ধান-৪৮ এবং বিআর-২৬ জাতের চাষ বেশি হয়েছে। সেই সাথে হাইব্রিড জাতের মধ্যে এ্যারাইজ তেজগোল্ডও লক্ষ্য করার মতো। মিরপুর উপজেলার কৃষক মোতালেব হোসেন জানান, এবার রোপা আউশ ধানের ফলন ভালো। এবং বৃষ্টি হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। বোরো মৌসুমের চেয়েও রোপা আউশে খরচ অনেক কম। আরেকজন কৃষক আলফাত হোসেন জানান, বিগত বছরের চেয়ে এবছর রোপা আউশের ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে আমাদের এই এলাকায় রোপা আউশের ধান চাষ বৃদ্ধি যাবে। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, এই অঞ্চলের কৃষকরা বোরো চাষে বেশি আগ্রহ দেখায়। বোরোতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করে। যার ফলে নাইট্রা অক্সাইড নির্গত হয় যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরো বলেন, মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমানোর জন্য আমরা মিরপুর উপজেলার রোপা আউশ ধানের চাষ করার পরামর্শ দিয়েছি। কৃষকদের বিভিন্ন প্রনোদনার মধ্যদিয়ে উৎসাহিত করেছি। এছাড়া রোপা আউশ ধান বৃষ্টি সেচের উপর নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম হয়। কৃষকরা এবছর বেশি রোপা আউশে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যার ফলে এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমান রোপা আউশ ধানের চাষ হয়েছে।

আরো খবর...